
ফাইল ছবি
পরিবারের অভাব ঘোচাতে বিদেশে পাড়ি দেওয়া বহু বাংলাদেশির জীবনের শেষ পরিণতি হচ্ছে বেদনাদায়ক ও নির্মম। প্রবাসে মৃত্যুর পর অনেকের মরদেহ মাসের পর মাস পড়ে থাকে মর্গে, কেউ দেশে আনতে চায় না, আবার কাগজপত্র ও অর্থের জটিলতায় ফিরতেও দেরি হয় অনেক প্রবাসীর লাশ।
মালয়েশিয়ায় কাজ করতে গিয়ে স্ট্রোক করে মারা যান কুমিল্লার লাকসামের আবদুল সোবহান (৪৯)। মৃত্যুর প্রায় দুই মাস পরও পরিবার তার মরদেহ দেশে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। একই চিত্র দেখা যায় ২০২২ সালে ইতালিতে মারা যাওয়া আবদুল হাইয়ের (৪৪) ক্ষেত্রেও। পরিবার রাজি না হওয়ায় প্রবাসীদের সহযোগিতায় সেখানেই তাকে দাফন করা হয়।
এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের লাশ প্রায়ই বেওয়ারিশ হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ব্যবস্থাপনা ও রাষ্ট্রীয় খরচে প্রবাসীদের মরদেহ দেশে পাঠানোর দাবি উঠলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।
লিবিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মারা যাওয়া নাজমুল ইসলামের (৩০) মরদেহ দেশে আসতে সময় লাগে প্রায় তিন মাস। আবার মালয়েশিয়ায় মারা যাওয়া আবদুল হান্নানের (৪৪) মরদেহ দেশে আনতে প্রবাসীদের চাঁদা তুলে ১২ হাজার রিঙ্গিত জোগাড় করতে হয়েছে, যদিও তিনি বৈধ কর্মী ছিলেন।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, ডকুমেন্টেড বা আন-ডকুমেন্টেড—এটা না দেখে দ্রুত মরদেহ পাঠানোর ব্যবস্থা করা জরুরি। পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল হলে বিলম্ব কমবে।
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ বছরে ৪১ হাজার ৮৭৫ প্রবাসীর মরদেহ দেশে ফিরেছে। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে স্ট্রোক ও হৃদরোগে। তবে এত অল্প বয়সে কেন বিপুলসংখ্যক প্রবাসী মারা যাচ্ছেন, তা নিয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কোনো অনুসন্ধান নেই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রচণ্ড গরম, অমানুষিক পরিশ্রম, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, অস্বাস্থ্যকর বাসস্থান ও মানসিক চাপই এসব মৃত্যুর মূল কারণ। রামরুর তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ বছরে প্রবাসে মারা যাওয়া কর্মীদের বড় অংশের মৃত্যু অস্বাভাবিক, যার সঠিক তদন্তও হয় না।
যে প্রবাসীরা বছরে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখছেন, মৃত্যুর পর তাদের মরদেহ দেশে ফেরানো ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা—এটুকু ন্যূনতম অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের কণ্ঠে।

















































