শনিবার । মার্চ ২১, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক শিক্ষা ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ন
শেয়ার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পালিত হলো চীনের বসন্ত উৎসব


DU China

বাংলাদেশ ও চীনের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে এবং চীনা নববর্ষ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত হলো এক মনোমুগ্ধকর বসন্ত উৎসব সঙ্গীতানুষ্ঠান। ‘গান, পাহাড়-সাগর অতিক্রম করে চীন ও বাংলাদেশকে বেঁধেছে একই সুতোয়’—এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে সোমবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনের উন্মুক্ত স্থানে (বটতলা) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শাংহাই চিনাকোরাস দল এবং বাংলাদেশের শিল্পীরা যৌথভাবে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকায় বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থী এতে যোগ দিয়ে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে উৎসাহিত করেন।

অনুষ্ঠানে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্টল দিয়ে চীনের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সামগ্রী বাংলাদেশের নাগরিকদের প্রদর্শন করেন। এ ছাড়া এতে ছিল চীনা ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনী।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে স্টলগুলো ঘুরে দেখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান।

এ সময় উপাচার্য বলেন, চীন ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব সাম্প্রতিক সময়ে আরও মজবুত হয়েছে। আমরা দুই দেশের এরকম সাংস্কৃতিক বিনিময়ের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। চীন ও বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন নয়। বিগত ৪ হাজার বছর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক চলে আসছে। আশা করি এই সম্পর্ক সামনে আরও এগিয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই ছিল আধুনিক চীনা গান এবং বাংলাদেশের জনপ্রিয় সুরের সংমিশ্রণ। আবু সাঈদ ও মাইশা মাহনাজের কণ্ঠে ‘তুমি কি নাচতে চাও’ গানের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই আয়োজনে শাংহাই চিনাকোরাস দল পরিবেশন করে ‘মুক্তির মন্দির সোপান তলে’—যা উপস্থিত দর্শকদের বিশেষভাবে আপ্লুত করে। চীনা লোকসংগীত ‘ছোট নদী বয়ে চলে’ এবং বাংলাদেশের কালজয়ী গান ‘যাও পাখি বলো তারে’-এর অপূর্ব গায়নশৈলী দুই দেশের কৃষ্টির মিলনমেলা ঘটায়।

অনুষ্ঠানে শুধু কণ্ঠসংগীতই নয়, চীনা ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র কুচেং ও বাঁশির সুরে পরিবেশিত হয় ‘ছিংহুয়া সি’ এবং ‘এলিফ্যান্ট কিং রাইড’। জন্মভূমির টানে গাওয়া গান ‘জন্মভূমির মেঘ’ এবং বাংলাদেশের চিরসবুজ গান ‘ধনধান্য পুষ্প ভরা’ ও ‘ওরে নীল দরিয়া’ অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।

তবে দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রে ছিল বাংলাদেশি আবু সাঈদের কণ্ঠে চীনা রক মিউজিক এবং চীনের ইয়ুননান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে বাংলা গান।

অনুষ্ঠানের শেষভাগে চীনা লোকসংগীত ও ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ‘সুন তুও চিয়াও’ এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের পরিচালক এবং শানহাই চিনাকোরাস দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি শেষ হয় ‘একই গান’ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে, যেখানে সকল শিক্ষার্থী ও শিল্পী একযোগে অংশগ্রহণ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের চীনা পরিচালক ইয়াং হুই জানান, চীনের সবচেয়ে বড় উৎসব বসন্ত উৎসব। এই উৎসবের আনন্দ বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে এ আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া চীনের সংস্কৃতির সঙ্গে এদেশের মানুষের কাছে পরিচয় করিয়ে দেওয়াও ছিল এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।

উপস্থিত সুধীজনদের মতে, এ ধরনের আয়োজন কেবল বিনোদন নয়, বরং দুই দেশের মানুষের মধ্যে হৃদয়ের যোগসূত্র স্থাপনে এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়কে আরও সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সূত্র: সিএমজি