
ছবি: সংগৃহীত
ঘূর্ণিঝড় ‘হ্যারি’র প্রভাবে ইতালির দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ক্যালাব্রিয়া, সিসিলি ও সার্ডিনিয়া অঞ্চলে ব্যাপক ভূমিধস ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করেছে সরকার।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সিসিলির নিশেমি শহর। সেখানে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত ১ হাজার ৫০০ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। ভূমিধস শহরের কেন্দ্রের দিকে এগিয়ে আসায় জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
ইতালির নাগরিক সুরক্ষা মন্ত্রী নেলো মুসুমেচি জানান, ঝুঁকি বিবেচনায় নিরাপত্তা বেষ্টনী ১০০ মিটার থেকে বাড়িয়ে ১৫০ মিটার করা হয়েছে। রাই নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিধসের রেখা এখন প্রায় চার কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। তিনি বলেন, পরিস্থিতি অবনতির কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।
নাগরিক সুরক্ষা বিভাগের প্রধান ফ্যাবিও সিসিলিয়ানো সতর্ক করে বলেন, ভূমিধস এখনো থামেনি। শহরের ভেতরে মাটি সরে যাওয়ায় আরও মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। তাঁর ভাষায়, নিশেমিতে ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে এবং পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
সংবাদ সংস্থা আনসা জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়জনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় ইতালি সরকার জাতীয় জরুরি তহবিল থেকে প্রাথমিকভাবে ১০ কোটি ইউরো বরাদ্দ দিয়েছে। এই অর্থ ধ্বংসাবশেষ অপসারণ, জরুরি সেবা পুনরুদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিক সহায়তায় ব্যয় করা হবে।
এদিকে নাগরিক সুরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, মধ্য-পশ্চিম ভূমধ্যসাগরে গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে ভেনেতো, সার্ডিনিয়া, কাম্পানিয়া, ক্যালাব্রিয়া ও সিসিলিতে হলুদ সতর্কতা ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
নিশেমিতে কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে ইতোমধ্যে দুটি বড় ভূমিধস ঘটেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ এবং কোথাও কোথাও ভূমিধসের গভীরতা ছয় মিটার পর্যন্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মেয়র ম্যাসিমিলিয়ানো কন্টি পরিস্থিতিকে ‘নাটকীয়’ আখ্যা দিয়ে জানান, রাতে আরও ধস নেমেছে এবং মাটিতে ২৫ মিটার পর্যন্ত উল্লম্ব ফাটল দেখা গেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে শহরের বেশ কয়েকটি সড়ক ও সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে উত্তর ইতালিতে আরেনজানো ও জেনোয়ার মধ্যবর্তী ভিয়া অরেলিয়া উপকূলীয় সড়কে বড় ধরনের ভূমিধস হয়েছে। পিজো টানেলের কাছে পাহাড়ের একটি অংশ ধসে পড়ে রাস্তার দুই পাশে পাথর ও মাটি ছড়িয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধারকুকুর নিয়ে রাতভর তল্লাশি চালালেও এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সার্ডিনিয়ায়ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া অব্যাহত রয়েছে। সেখানে ঝড়ের সতর্কতা আরও ২৪ ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে এবং ভারী বৃষ্টিপাত ও হাইড্রোজিওলজিক্যাল ঝুঁকি নিয়ে স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।






































