
ছবি: সংগৃহীত
এইচ-১বি ভিসা নিয়ে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছেন ভারতীয় অভিবাসীরা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া অভিবাসন নীতিকে সমর্থন জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস রাজ্য সরকার রাজ্যের অধীনস্থ সব সরকারি সংস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এইচ-১বি ভিসা আবেদন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট এক সরকারি চিঠির মাধ্যমে সিদ্ধান্তটি নিশ্চিত করেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির কারণে এমন বহু চাকরি বিদেশিরা পাচ্ছেন, যেগুলো মূলত আমেরিকান নাগরিকদের—বিশেষ করে টেক্সাসের বাসিন্দাদের—দ্বারা পূরণ হওয়া উচিত ছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ভারতীয়রা। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রায় ৫ দশমিক ২ মিলিয়ন ভারতীয়ের মধ্যে প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজারই টেক্সাসে থাকেন। এছাড়া নিউ জার্সিতে প্রায় ৪ লাখ ৪০ হাজার, নিউইয়র্কে ৩ লাখ ৯০ হাজার এবং ইলিনয়ে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার ভারতীয় বসবাস করেন।
গভর্নর অ্যাবট বলেন, বিশ্বের সেরা ও বিশেষায়িত মেধাবীদের মাধ্যমে প্রকৃত দক্ষতার ঘাটতি পূরণের বদলে এই কর্মসূচি অনেক ক্ষেত্রে এমন চাকরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা টেক্সাসের নাগরিকরাই সহজেই করতে পারতেন।
রিপাবলিকান দলের এই গভর্নর আরও জানান, টেক্সাসকে ‘আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি’ হিসেবে ধরে রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হিউস্টন ক্রনিকল-এর উদ্ধৃত ফেডারেল তথ্যে বলা হয়েছে, টেক্সাসে অধিকাংশ এইচ-১বি ভিসাধারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করলেও সরকারি খাতে—বিশেষ করে রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল ও অন্যান্য সরকারি সংস্থায়—এই ভিসাধারীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এইচ-১বি ভিসা স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে ৩১ মে ২০২৭ পর্যন্ত। ফলে রাজ্যের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল ও বিভিন্ন সংস্থা সরাসরি প্রভাবের মুখে পড়বে।
এছাড়া গভর্নরের নির্দেশে বলা হয়েছে, আগামী ২৭ মার্চের মধ্যে সব রাজ্য সংস্থাকে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এতে ভিসা নবায়নের আবেদন সংখ্যা, আবেদনকারীদের দেশ, বর্তমান ভিসার মেয়াদসহ প্রয়োজনীয় তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ঘোষিত ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা কড়াকড়ি ভারতীয় সম্প্রদায়ের ওপর সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। মার্কিন পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের একটি বড় অংশই ভারতীয় বংশোদ্ভূত।





































