রবিবার । মার্চ ২২, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:২৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

মিয়ানমারে বিতর্কিত নির্বাচনের সময় জান্তার বিমান হামলায় নিহত ১৭০


mayanmar-election

ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারে জান্তা বাহিনীর আয়োজিত বহুল সমালোচিত নির্বাচনের সময় দেশজুড়ে চালানো বিমান হামলায় অন্তত ১৭০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের বরাতে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

জাতিসংঘ জানায়, ‘বিশ্বস্ত সূত্র’ অনুযায়ী ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত নির্বাচনী সময়জুড়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী মোট ৪০৮টি বিমান হামলা চালিয়েছে। গত সপ্তাহে দেশটিতে ভোটগ্রহণের তৃতীয় ও শেষ ধাপ অনুষ্ঠিত হয়। তবে এই নির্বাচনকে আগেই বহু দেশ ও মানবাধিকার সংগঠন প্রহসন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, সামরিক বাহিনী সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে। কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও সীমিত অংশগ্রহণের কারণে এমন ফলাফল প্রত্যাশিতই ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকেরা।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির বড় অংশে ভোটগ্রহণই সম্ভব হয়নি। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেত্রী অং সান সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত ও কারাবন্দি করার পর থেকেই মিয়ানমার গৃহযুদ্ধ ও সহিংসতায় বিপর্যস্ত।

এবারের নির্বাচনে সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) অংশ নেওয়ার অনুমতি পায়নি। উল্লেখ্য, অভ্যুত্থানের আগে পরপর দুই নির্বাচনে দলটি ভূমিধস জয় পেয়েছিল।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক এক বিবৃতিতে বলেন, এই নির্বাচন ছিল সামরিক বাহিনীর দ্বারা ‘সাজানো’। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিরোধী প্রার্থী ও কয়েকটি জাতিগত গোষ্ঠীকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি, আর ভয়ের পরিবেশে মানুষ ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিল। এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের সম্পূর্ণ পরিপন্থি।

জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের মিয়ানমার টিমের প্রধান জেমস রোডেহাভার জানান, নিহতের এই সংখ্যা ডিসেম্বরের প্রচারণা শুরুর সময় থেকে জানুয়ারির শেষ ভোটপর্ব পর্যন্ত সংগৃহীত। যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা ও মানুষের ভয়ের কারণে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলেও তিনি জানান।