
ফাইল ছবি
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ইসরায়েলের একাধিক বিমান হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। হামলায় নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিস শহরে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাঁবুতে হেলিকপ্টার থেকে গুলি করার ঘটনা ঘটেছে।
হামাস পরিচালিত গাজার সিভিল ডিফেন্স বিভাগ জানিয়েছে, শনিবারের হামলাকে তারা ‘যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্যায়ের সবচেয়ে তীব্র হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। গত অক্টোবরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্যায় কার্যকর হয়। চলতি বছরের শুরুতে দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হলেও একাধিকবার তা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী শনিবারের হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, শুক্রবার হামাস যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছে এবং শনিবারের হামলাগুলো তার প্রতিক্রিয়ায় চালানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গাজার বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে চারজন হামাস কমান্ডার, একটি অস্ত্র সংরক্ষণাগার, একটি অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র এবং গাজার মধ্যাঞ্চলের দুটি হামাসের হামলা কেন্দ্র।
হামাস শনিবারের হামলার তীব্র সমালোচনা করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল এখনও গণহত্যামূলক হামলা চালাচ্ছে। হামলার ফলে আবাসিক ভবন, তাঁবু, আশ্রয়কেন্দ্র এবং পুলিশ স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গাজা নগরীর শিফা হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানান, শহরের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে তিন শিশু ও দুজন নারী নিহত হয়েছেন। হামলার প্রভাবে বহু পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। হামাসের দাবি, খান ইউনিসে নিহতদের মধ্যে সাতজন একই বাস্তুচ্যুত পরিবারের সদস্য।
এ ঘটনায় ফিলিস্তিনিরা সতর্ক করে বলছেন, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের এই নতুন পর্যায় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তাত্ক্ষণিক হস্তক্ষেপ ছাড়া এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।





































