
শীতে অপার্থিব সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে পরিণত হয়েছে চীনের ইনিং কাউন্টি। শীতের প্রকোপ বাড়ার সাথে সাথে এখানকার সোয়ান স্প্রিং লেক পরিণত হয়েছে শুভ্র রাজহাঁসদের এক অভয়ারণ্যে। এক হাজারেরও বেশি রাজহাঁসের উপস্থিতিতে পুরো এলাকাটি যেন পরিণত হয়েছে রূপকথার কোনো এক ‘তুষার স্বর্গে’।
তীব্র শীতে যখন চারপাশের সবকিছু জমে বরফ হয়ে যায়, তখন এই ‘সোয়ান স্প্রিং লেক’ উষ্ণ থাকে তার আপন মহিমায়। তলদেশের প্রাকৃতিক উষ্ণ প্রস্রবণই হচ্ছে এই লেকের বিশেষত্ব।
ভূগর্ভস্থ এই উষ্ণতার কারণে হাড়কাঁপানো শীতেও লেকের পানি জমে যায় না। আর এই উষ্ণ জলই শত শত মাইল পথ পাড়ি দিয়ে আসা পরিযায়ী রাজহাঁসদের জন্য গড়ে তুলেছে এক নিরাপদ এবং আরামদায়ক আবাসস্থল।
গেল বছরের অক্টোবর থেকেই এই জলাভূমিতে আসতে শুরু করে পরিযায়ী পাখিরা। অবাক করা বিষয় হলো, এই রাজহাঁসদের মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশই হলো ‘মিউট সোয়ান’। তুষারাবৃত ল্যান্ডস্কেপের মাঝে রাজহাঁসদের চিকচিক করা সাদা পালক মিলেমিশে যেন একাকার। রোদের আলো যখন সেই বরফ আর সাদা পালকের ওপর পড়ে, তখন তৈরি হয় এক চোখ ধাঁধানো দৃশ্য।
এই দৃশ্য দেখে মুগ্ধ এক পর্যটক তার অনুভূতি শেয়ার করতে গিয়ে বলেন, “আমি এখান থেকে দুটো রাজহাঁসের লাভ আকৃতি ফ্রেম তৈরির এক অপূর্ব মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করেছি। আমি চীনের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ, আগে কখনও এত তুষার দেখিনি। চারিদিকের এই অন্তহীন সাদা প্রান্তর সত্যিই শ্বাসরুদ্ধকর!”

এই অভূতপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে ভিড় জমাচ্ছেন পর্যটক ও আলোকচিত্রীরা। বরফে ঢাকা প্রকৃতির বুক চিরে যখন রাজহাঁসগুলো ডানা ঝাপটায় বা শান্ত জলে ভেসে বেড়ায়, তখন সেই দৃশ্য ফ্রেমবন্দি করতে উন্মুখ হয়ে থাকেন সবাই।
প্রকৃতি আর বন্যপ্রাণীর এই নিবিড় সখ্যতা ইনিং কাউন্টিকে বছরের এই সময়ে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করেছে।




































