
এটি খোলা থাকবে কি না—তা নির্ভর করবে কাঠামোর পর বাস্তব ‘বিষয়বস্তু’ আসে কি না, তার ওপর
তেহরানে এখন প্রশ্নটা আর কূটনীতি শুরু হয়েছে কি না—তা নয়; প্রশ্ন হলো, উত্তেজনা বাড়ার আগেই এই কূটনীতি কি যথেষ্ট দ্রুত এগোতে পারবে।
একজন ইরানি কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী দফার আলোচনার ভেন্যু হিসেবে ওমান নিশ্চিত হয়েছে। বৈঠকটি চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে হওয়ার কথা। তবে ওই কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, আপাতত অন্য কোনো আঞ্চলিক দেশকে আলোচনায় যুক্ত করা হচ্ছে না—যদিও আলোচনায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব ছিল।
তার ভাষায়, আঞ্চলিক দেশগুলোকে এখনই যুক্ত না করার পেছনে ইরানের উদ্দেশ্য কাউকে বাদ দেওয়া নয়; বরং আশঙ্কা হলো, অনেক পক্ষ একসঙ্গে বসলে আলোচনা ‘কেন্দ্রভিত্তিক দরকষাকষির বদলে রাজনৈতিক প্রদর্শনীতে’ রূপ নিতে পারে।
ইরানের লক্ষ্য হলো—প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার কাঠামো স্থিতিশীল করা।
তবে প্রক্রিয়ায় যুক্ত আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। তাদের মতে, এই পর্যায়ে তারা শুধু আলোচনা সহজতরকারী নন; ভবিষ্যৎ কোনো সমঝোতার সম্ভাব্য ‘গ্যারান্টর’ হিসেবেই তাদের ভূমিকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংকটের প্রভাব সরাসরি তাদের নিজেদের স্থিতিশীলতার ওপর পড়ে।
এটি ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে একটি স্পষ্ট পার্থক্য নির্দেশ করে। তখন চুক্তির ভিত্তি ছিল লেনদেনমূলক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে উত্তেজনা পুরোপুরি সামরিক মাত্রা পেয়েছে। আঞ্চলিক পক্ষগুলো আর প্রান্তিক পর্যবেক্ষক নয়; উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ, প্রশমন এবং সংঘাত ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে তাদের প্রত্যক্ষ কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে।
গত কয়েক দিনে ইরান ও আঞ্চলিক দেশগুলোর কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। গত বছরের ৩০ জুন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি মস্কো সফরে গিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। গত শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইস্তাম্বুলে পরামর্শ সভা করেন।
এই বৈঠকগুলোর ধারাবাহিকতায় কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান বিন জাসিম আল থানি সপ্তাহান্তে তেহরান সফর করেন। এর পরপরই লারিজানি প্রকাশ্যে জানান, একটি কাঠামোবদ্ধ আলোচনা-ফ্রেমওয়ার্ক গড়ে উঠতে শুরু করেছে।
একাধিক সূত্রের মতে, এখন যে প্রস্তুতি চলছে, তা কোনো আংশিক বা অন্তর্বর্তী সমঝোতার নয়; বরং একটি সর্বাঙ্গীণ চুক্তির দিকে যাওয়ার রোডম্যাপ।
ওয়াশিংটন অবশ্য অনিশ্চয়তাকে কৌশল হিসেবে ধরে রাখছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে ফক্স নিউজকে বলেন, ‘ইরান আমাদের সঙ্গে কথা বলছে। দেখা যাক আমরা কিছু করতে পারি কি না; নাহলে দেখা যাবে কী হয়।’ এই বক্তব্যে কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার পাশাপাশি চাপের ইঙ্গিতও রয়েছে—লিভারেজ হিসেবে অনিশ্চয়তা বজায় রাখা হয়েছে।
এর মানে কি যুদ্ধের ঝুঁকি পুরোপুরি কেটে গেছে? না। তবে আপাতত তা কমেছে—যদিও তা সাময়িকভাবে।
আস্থা গড়ার কিছু পদক্ষেপ, যেমন ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত স্থানান্তর বা ডাউনব্লেন্ডিং, মূল বিরোধগুলো সমাধানের জন্য যথেষ্ট না। সবচেয়ে বড় অমীমাংসিত বিষয়গুলো রয়ে গেছে—বিশেষ করে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং তার আঞ্চলিক প্রতিরোধ কৌশল।
এখানেই আসল দরকষাকষি। যুক্তরাষ্ট্র আর এমন কোনো চুক্তিতে আগ্রহী নয়, যা শুধু ঝুঁকি ‘ম্যানেজ’ করে। অন্যদিকে ইরান এমন সমঝোতা চায় না, যা একক কোনো প্রেসিডেন্সির সঙ্গে বাঁধা থাকবে বা সহজে বাতিলযোগ্য হবে। উভয় পক্ষই এখন খতিয়ে দেখছে—কাঠামোগত ছাড়ের বিনিময়ে কি কাঠামোগত নিশ্চয়তা আদান–প্রদান করা যায়। বাকি সবকিছু—ফরম্যাট, ভেন্যু, অংশগ্রহণ—গৌণ।
এই মুহূর্তে কূটনীতি এগোচ্ছে, যুদ্ধ পিছিয়েছে, আর জানালাটি খোলা আছে। এটি খোলা থাকবে কি না—তা নির্ভর করবে কাঠামোর পর বাস্তব ‘বিষয়বস্তু’ আসে কি না, তার ওপর।
আল জাজিরা অবলম্বনে




































