
নিহত মোবারক হোসেন (বামে)। গুরুতর আহত হাবিবুর রহমান (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত
কুয়েতে সড়ক দুর্ঘটনায় মোবারক হোসেন (৫৬) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি রেমিট্যান্সযোদ্ধা নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় হাবিবুর রহমান (৩৬) নামে অপর এক বাংলাদেশি গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গত মঙ্গলবার রাজধানী কুয়েত সিটির সাবাহ হাসপাতালের সামনে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
নিহত মোবারক হোসেনের বাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার হারিছ উদ্দিনের ছেলে। তিনি কুয়েতের প্রসিদ্ধ পরিচ্ছন্নতা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘তানজিপকো’ কোম্পানিতে সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থেকে হাড়ভাঙা খাটুনির মাধ্যমে তিনি দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখছিলেন।
অন্যদিকে, গুরুতর আহত হাবিবুর রহমানের বাড়ি ময়মনসিংহে; তার পিতার নাম আব্দুল কাদের খান। তিনি একই কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি কুয়েতের একটি হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।
ঘটনাটি কেবল সাধারণ সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখছে না কুয়েত প্রশাসন। অভিযোগ উঠেছে, কুয়েতের এক নাগরিক ইচ্ছাকৃতভাবে ওই দুই বাংলাদেশিকে গাড়িচাপা দিয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কুয়েতি নাগরিককে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাকে পাবলিক প্রসিকিউশনে পাঠানো হয়েছে এবং প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে ‘পূর্বপরিকল্পিত হত্যার’ অভিযোগ আনা হয়েছে।
কুয়েত পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলাটি বর্তমানে নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। কেন বা কোন পরিস্থিতিতে ওই ব্যক্তি গাড়িচাপা দিয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে কাপাসিয়ায় নিহতের পরিবারে শোকের মাতম চলছে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা এই নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ দূতাবাসের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।








































