রবিবার । মার্চ ২২, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮:৪৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

এপস্টিনের দ্বীপে যাওয়ার কথা স্বীকার করলেন মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী


Haward-Lutkik

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক স্বীকার করেছেন, তিনি ২০১২ সালে কুখ্যাত মার্কিন ধনকুবের ও দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের ব্যক্তিগত দ্বীপে গিয়েছিলেন। এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, অনেক আগেই এপস্টিনের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন—সেই বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত এই স্বীকারোক্তি।

মঙ্গলবার ক্যাপিটল হিলে এক শুনানিতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে লুটনিক বলেন, পারিবারিক ছুটিতে একটি নৌভ্রমণের সময় তিনি এপস্টিনের সঙ্গে ওই দ্বীপে মধ্যাহ্নভোজ করেছিলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে স্ত্রী ও চার সন্তান ছিলেন। তিনি জানান, তারা প্রায় এক ঘণ্টার মতো দ্বীপটিতে অবস্থান করেছিলেন।

মার্কিন বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত এপস্টিন-সংক্রান্ত নথিপত্রে লুটনিকের ওই সফর সংক্রান্ত চিঠিপত্র ও ই–মেইলের তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের একাধিক আইনপ্রণেতা তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছেন। তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বাণিজ্যমন্ত্রী লুটনিকের প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।

এর আগে লুটনিক কংগ্রেসকে জানিয়েছিলেন, ২০০৫ সালেই তিনি এপস্টিনের সঙ্গে সব যোগাযোগ বন্ধ করেন। নিউইয়র্কে তাঁরা প্রতিবেশী ছিলেন বলেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি। তবে সর্বশেষ শুনানিতে লুটনিক বলেন, তাঁর জানামতে পরবর্তী ১৪ বছরে তিনি আরও দুবার এপস্টিনের সঙ্গে দেখা করেছেন।

মার্কিন বিচার বিভাগের নথি অনুযায়ী, লুটনিক ২০১২ সালের ২৩ ডিসেম্বর এপস্টিনের দ্বীপে যান। উল্লেখ্য, এর চার বছর আগেই—২০০৮ সালে—অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন কাজে বাধ্য করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন জেফরি এপস্টিন।

শুনানিতে লুটনিক বলেন, কেন তারা ওই দ্বীপে গিয়েছিলেন, তা এখন স্পষ্টভাবে তাঁর মনে নেই। তবে মধ্যাহ্নভোজের জন্য সেখানে যাওয়া হয়েছিল—এ কথা তিনি নিশ্চিত করেন।

এপস্টিন–সংক্রান্ত কোনো অপরাধে এখন পর্যন্ত লুটনিকের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।

লুটনিক আরও জানান, ওই সফরের প্রায় দেড় বছর পর এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর এক ঘণ্টার একটি বৈঠক হয়েছিল। তাঁর দাবি, বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত লাখ লাখ পৃষ্ঠার নথিতে মাত্র ১০টির মতো ই–মেইলে তাঁর নাম এসেছে এবং দীর্ঘ ১৪ বছরে এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর কার্যত কোনো সম্পর্ক বা লেনদেন ছিল না।

তবে তাঁর পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মেরিল্যান্ডের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন। শুনানিতে তিনি লুটনিকের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন।

এদিকে এপস্টিন-সংক্রান্ত নথি জনসমক্ষে প্রকাশের আইনের দুই প্রধান উদ্যোক্তা—ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য রো খান্না ও রিপাবলিকান থমাস ম্যাসি—অবিলম্বে বাণিজ্যমন্ত্রী লুটনিকের পদত্যাগ দাবি করেছেন। রো খান্না দাবি করেন, প্রকাশিত নথিতে আরও কিছু নাম রয়েছে, যেগুলো আগে আড়াল করা হয়েছিল।

সূত্র: বিবিসি