রবিবার । মার্চ ২২, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২:২৪ অপরাহ্ন
শেয়ার

এআই যেন কয়েকজন ধনকুবেরের নিয়ন্ত্রণে না যায়: জাতিসংঘ মহাসচিবের সতর্কবার্তা


UN-Secretary-General-

গুতেরেস বলেন, এআই প্রযুক্তি এমনভাবে পরিচালিত হতে হবে যাতে এর সুফল বিশ্বব্যাপী সবার কাছে পৌঁছে যায়

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারকে ঘিরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেছেন, এআইয়ের ভবিষ্যৎ গুটিকয়েক ধনী ব্যক্তি বা সীমিতসংখ্যক দেশের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে পারে না।

বৃহস্পতিবার ভারতে অনুষ্ঠিত এক বৈশ্বিক এআই সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব এ মন্তব্য করেন। নয়াদিল্লি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

গুতেরেস বলেন, এআই প্রযুক্তি এমনভাবে পরিচালিত হতে হবে যাতে এর সুফল বিশ্বব্যাপী সবার কাছে পৌঁছে যায়। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ধনকুবেরদের অন্তত ৩ বিলিয়ন ডলারের একটি বৈশ্বিক তহবিলে অবদান রাখার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, এটি বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বার্ষিক আয়ের তুলনায় খুবই সামান্য অংশ, অথচ বৈশ্বিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি সতর্ক করেন, কার্যকর নীতিমালা ও সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে এআই বৈশ্বিক বৈষম্য আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। একইসঙ্গে পক্ষপাত, অপব্যবহার ও সামাজিক ক্ষতির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তবে সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা সম্প্রসারণ, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং সরকারি সেবা উন্নয়নে এআই যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে সক্ষম বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এআই খাতে বৈশ্বিক জবাবদিহিতা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ একটি বৈশ্বিক বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা কমিটি গঠন করেছে বলে জানান গুতেরেস। পাশাপাশি ‘গ্লোবাল ফান্ড অন এআই’ গঠনের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সুরক্ষাকবচ তৈরিতে এ তহবিল গুরুত্বপূর্ণ হবে।

সম্মেলনে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এআই যেন মানুষের শোষণের হাতিয়ার না হয় এবং কোনো শিশুই যেন অনিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক উপাদানে পরিণত না হয়—সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

এছাড়া এআই-নির্ভর ডেটা সেন্টারগুলোর কারণে বিদ্যুৎ ও পানির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে উল্লেখ করে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের আহ্বান জানান জাতিসংঘ মহাসচিব, যাতে সাধারণ মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।