শনিবার । মার্চ ২১, ২০২৬
এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক বিনোদন ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

রোলেক্স থেকে ওমেগা: রাসেল ক্রোর কোটি টাকার শখ


Russell-Crowe

অস্কারজয়ী অভিনেতা রাসেল ক্রো

হলিউডের রুপালি পর্দায় তিনি কখনো রোমান সেনাপতি, কখনো বা অকুতোভয় যোদ্ধা। অস্কারজয়ী অভিনেতা রাসেল ক্রো মানেই গাম্ভীর্য আর দুর্দান্ত অভিনয়ের এক মিশেল। তবে সম্প্রতি ভক্তরা এই তারকার এক নতুন এবং বেশ চমকপ্রদ সত্তার খোঁজ পেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে ‘igp366’ ছদ্মনামে একটি অ্যাকাউন্ট চালিয়ে আসছিলেন তিনি, যার মূল বিষয়বস্তু কোনো সিনেমার প্রচার নয় বরং বিলাসবহুল ঘড়ির প্রতি তাঁর অগাধ ভালোবাসা। তাঁর ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড ‘ইনডোর গার্ডেন পার্টি’র সংক্ষিপ্ত রূপ নিয়ে সাজানো এই অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যেই ভিড় জমিয়েছেন হাজার হাজার অনুরাগী।

রাসেল ক্রোর এই ঘড়ি-বিলাসের জগতে নেই কোনো তারকাসুলভ আড়ম্বর বরং আছে সংগ্রাহকের নিখাদ অনুরাগ। ভিডিওগুলোতে তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন যে তিনি ঘড়ির নেশায় ‘আক্ষরিক অর্থেই নিবেদিতপ্রাণ’। তাঁর সংগ্রহ এতোটাই বিশাল যে সব ঘড়ি দেখাতে গেলে লম্বা সময়ের প্রয়োজন।

Russell-Crowe-Watch

রোলেক্স ডেটোনা

বর্তমানে নিয়মিত পরছেন এমন কয়েকটি ঘড়ি নিয়ে তিনি হাজির হয়েছেন ভক্তদের সামনে, যেখানে জায়গা করে নিয়েছে রোলেক্স, টুডার ও ওমেগার মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড। কোনো কোনো ঘড়ির দাম ছুঁয়েছে ৬০ হাজার ডলারের ঘর। বিশেষভাবে নজর কেড়েছে গত উইম্বলডনে তাঁর পরা ৪১ হাজার ডলার মূল্যের রোলেক্স ডেটোনা এবং টিফানি নীল ডায়ালের একটি ঘড়ি, যার সূক্ষ্ম নাটকীয়তা ক্রোকে মুগ্ধ করে।

সংগ্রহের তালিকায় অন্যতম আকর্ষণ হলো জেমস বন্ডের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তৈরি ওমেগা সিমস্টার ডাইভার ৩০০এম। প্রায় সাড়ে নয় হাজার ডলার মূল্যের এই ঘড়িটি পিয়ার্স ব্রসনানের সেই বিখ্যাত ‘গোল্ডেন আই’ সিনেমার স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। মজার বিষয় হলো, একসময় বন্ড চরিত্রে ক্রোর অভিনয়ের গুঞ্জন থাকলেও এটি তিনি কিনেছেন কেবল টেনিস কোর্টে সঙ্গীর সঙ্গে ম্যাচিং ঘড়ি পরে ‘মানসিক সুবিধা’ পাওয়ার জন্য।

অভিনেতার এমন ঘড়িপাগল রূপ দেখে ভক্তদের রসিকতা—একসময় যিনি কলোসিয়ামে বাঘের সাথে লড়তেন, তিনি এখন লড়ছেন ঘড়ির এক্সক্লুসিভ কালেকশন পেতে!

Russell-Crowe

২০০১ সালে ‘গ্ল্যাডিয়েটর’ সিনেমার জন্য অস্কার জিতেন রাসেল

তবে ভিডিওর সবচেয়ে আলোচিত অংশটি ছিল এর পটভূমি। যেখানে রাসেল ক্রোর জেতা সেই মহামূল্যবান সোনালি অস্কার মূর্তিটি ঘরের এক কোণে প্রায় অবহেলায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ২০০১ সালে ‘গ্ল্যাডিয়েটর’ সিনেমার জন্য পাওয়া এই স্বীকৃতি যেন অন্যান্য সাধারণ স্মারকের মতোই মিশে আছে তাঁর ঘরে।

ভক্তদের মতে, এটিই সম্ভবত আসল ‘ফ্লেক্স’। ঘড়ির প্রতি এই টান ক্রোর পুরনো; ২০১৮ সালেও তিনি নিজের সংগ্রহ থেকে পানেরাই, কার্টিয়ের ও শোপার্ডের মতো নামী ব্র্যান্ডের ২৪টি ঘড়ি নিলামে তুলেছিলেন। ছোটবেলায় জৌলুসপূর্ণ ঘড়ির অভাব থাকলেও এখন প্রতিটি ঘড়িকে তিনি দেখেন জীবনের একেকটি অধ্যায়ের স্মারক হিসেবে।