রবিবার । জুন ৭, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক বিনোদন ৭ জুন ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ন
শেয়ার

আমি মরে গেলেও গানগুলো যেন নষ্ট না হয়, সংগীতাঙ্গনে আর ফিরবেন না রিংকু


Ringku

জনপ্রিয় লোকসংগীতশিল্পী মশিউর রহমান রিংকু

ক্লোজআপ ওয়ান তারকা এবং জনপ্রিয় লোকসংগীতশিল্পী মশিউর রহমান রিংকুর জীবন এখন পুরোপুরি বদলে গেছে। চার-চারবার স্ট্রোক হয়ে ২০২০ সাল থেকে শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে যাওয়ার পর, চেনা আলোর জগৎ ছেড়ে তিনি এখন নিজ গ্রামের বাড়িতে সম্পূর্ণ নিভৃতে দিন কাটাচ্ছেন। শারীরিক বাস্তবতার কারণে সংগীতাঙ্গনে আর ফেরা সম্ভব নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন এই শিল্পী, তবে যাওয়ার আগে রেখে গেছেন এক আকুল আর্তি।

সম্প্রতি ‘পথের গল্প’ নামের একটি ট্রাভেল ডকুমেন্টারিতে অংশ নিয়ে নিজের বর্তমান অবস্থা এবং ফেলে আসা ক্যারিয়ার নিয়ে আবেগঘন কথা বলেন রিংকু। চেনা চত্বরে ফেরার আর কোনো সম্ভাবনা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পুরোপুরি গানে ফেরার ইচ্ছা বা সম্ভাবনা—কোনোটাই আমার নেই। কারণ চারবার স্ট্রোক হয়েছে, এর মধ্যে একবার-দুবার তো কেউ জানতই না। চারবার যখন স্ট্রোক হয়ে গেল, তখন বুঝলাম সব আশা শেষ। আসলে আমি যেভাবে ব্যাক করতে চাই, সেভাবে আর হবে না। পরিপূর্ণভাবে ব্যাক করতে না পারলে ফেরার দরকার নেই।’

তবে নিজের সৃষ্টি নিয়ে তার শেষ আকুতি, ‘আমি মরে গেলেও গানগুলো তো থাকবে। একটাই আহ্বান আমার, গানগুলো যেন নষ্ট না হয়, হারিয়ে না যায়।’

এই কঠিন সময়ে ফেলে আসা শহরের চেনা মানুষদের আচরণ ও স্বার্থপরতা নিয়েও গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন রিংকু। ক্ষোভের সুরে তিনি বলেন, ‘শহরের মানুষের ভালোবাসা হচ্ছে কাজের জন্য ভালোবাসা। একটা কথা আছে—কাজ করলে কাজী, কাজ ফুরালে পাজি। শহরের ভালোবাসা ঠিক তেমন। যদি কারও কাজ করে দিতাম তাহলে ভালোবাসত, কাজ না করে দিলে আমি নেই। সেই সময়ের কোনো বন্ধুই এখন আর নেই, কেউ খোঁজ রাখে না।’ তবে কারও করুণা বা সিমপ্যাথি চান না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

শহরের কৃত্রিমতা ছেড়ে রিংকু এখন প্রশান্তি খুঁজে পেয়েছেন মাটির মানুষের কাছে। বর্তমানে গ্রামের সাধারণ মানুষের আন্তরিক ও ‘অরিজিনাল’ ভালোবাসাই তাকে বেঁচে থাকার শক্তি জোগাচ্ছে। জীবনের এই চরম দুর্দিনে তাদের সঙ্গেই তিনি খুঁজে পেয়েছেন প্রকৃত বন্ধুত্ব ও নতুন করে বেঁচে থাকার প্রেরণা।