
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে নবম দিনে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। রোববার রাজধানী তেহরান ও আশপাশের এলাকায় একাধিক তেলের ডিপো ও শোধনাগার লক্ষ্য করে দফায় দফায় হামলা চালানো হলে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ডে রাতের আকাশ লাল হয়ে ওঠে এবং নালায় ছড়িয়ে পড়া তেল থেকে সড়কের পাশে ‘আগুনের নদী’ তৈরি হয়। এসব হামলায় অন্তত ৪১ জন নিহত হয়েছেন।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সামরিক স্থাপনা ও শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে অভিযান শুরু হয়। ওই হামলার প্রথম দিনেই নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা। এরপর থেকে দফায় দফায় হামলা অব্যাহত রয়েছে।
সর্বশেষ হামলার জবাবে ইরান সৌদি আরব, কুয়েত, জর্ডান ও ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। সৌদি আরবের আল-খার্জ অঞ্চলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে এক বাংলাদেশি ও এক ভারতীয় নিহত হন। কুয়েতে বিমানবন্দর ও জ্বালানি ডিপোতে হামলায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময় ইসরায়েলের তেল আবিব ও হাইফাসহ কয়েকটি শহরেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়।
ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের হামলার বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও কৌশলগত স্বার্থকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, সংঘাত চলতে থাকলে এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট জ্বালানি স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
এদিকে ইরানে তেল স্থাপনায় হামলার ফলে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ও ধোঁয়ার কারণে রাজধানী তেহরানের আকাশ দিনভর ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ছিল। সম্ভাব্য বিষাক্ত বৃষ্টির আশঙ্কায় জনগণকে সতর্ক করেছে ইরানের ত্রাণ সংস্থা। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ সীমিত করে একজন নাগরিকের জন্য দৈনিক তেল নেওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
চলমান এই যুদ্ধ ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ১২টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৩৭৩ জনে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ইসরায়েলে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ১১ জন নিহত ও প্রায় দুই হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ে কড়া বক্তব্য দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এক সময় এমন অবস্থা আসবে যখন ইরানে আত্মসমর্পণ ঘোষণা করার মতো কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। এর জবাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, দেশের ওপর হামলার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে এবং এসব হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই যুদ্ধ বন্ধ করে দ্রুত আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে এ সংকটের সমাধান সম্ভব নয়।
সূত্র: রয়টার্স ও আল–জাজিরা








































