সোমবার । মার্চ ৩০, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক দেশজুড়ে ২৯ মার্চ ২০২৬, ১০:১৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

হাজার কোটি টাকার ড্রেজিং প্রকল্পে সত্যিই কি বাড়বে ইলিশের উৎপাদন


Hilsha

২০২৩-২৪ মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৫.২৯ লাখ টন

দেশের নদ-নদীতে পলি জমে ইলিশের স্বাভাবিক চলাচলের পথ বা অভিবাসন রুট বন্ধ হয়ে আসায় বড় ধরনের সংকটে পড়েছে ইলিশ উৎপাদন। গত সাত বছরের মধ্যে উৎপাদন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসায় এবার মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীর মোহনায় বিশাল ড্রেজিং উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।

মৎস্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৫.২৯ লাখ টন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪২ হাজার টন কম। সাগরের লোনা পানি থেকে মিঠা পানিতে ডিম ছাড়তে আসার পথে অন্তত ২৫টি বড় চর বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে ইলিশ প্রজনন চক্র সম্পন্ন করতে পারছে না। বিশেষ করে চাঁদপুরের মেঘনা-তেতুলিয়া মোহনায় প্রায় ৮৮ কোটি টন পলি জমে নদীর গভীরতা ৫-১০ মিটার থেকে কমে মাত্র ২-৩ মিটারে নেমে এসেছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় চারটি প্রধান রুট চিহ্নিত করে নৌপরিবহন ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে ড্রেজিংয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় মেঘনা মোহনা, তেতুলিয়া, আন্ধারমানিক ও উজানের মেঘনার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে খননকাজ চালানোর কথা বলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা হিসাব করে দেখেছেন, শুধুমাত্র মেঘনা মোহনার ২০ কিলোমিটার ড্রেজিং করতেই ব্যয় হতে পারে প্রায় ৪,৭৬০ কোটি টাকা। তবে মৎস্যবিজ্ঞানী ড. মো. আনিসুর রহমান সতর্ক করেছেন যে, সঠিক কারিগরি মূল্যায়ন ছাড়া ড্রেজিং করলে তা উল্টো ইলিশের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

নদী বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিং নিশ্চিত করা না গেলে এত বড় বিনিয়োগের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে না। বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় পাঠানো এই প্রস্তাবটি নিয়ে বর্তমান সরকারও গুরুত্বের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।