
ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে বেঁচে ফেরা কাদির
উত্তর আফ্রিকা থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপ যাওয়ার পথে গ্রিসের উপকূলে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে অন্তত ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যু হলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছেন কিশোরগঞ্জের এক যুবক। বেঁচে ফিরে আসা এই যুবকের নাম আব্দুল কাদির। তিনি কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার দেওঘর ইউনিয়নের পশ্চিম সাভিয়ানগর গ্রামের বাসিন্দা এবং এক সন্তানের জনক।
প্রায় ১৫ লাখ টাকা খরচ করে আব্দুল্লাহপুরের এক দালালের মাধ্যমে গ্রিসে যাচ্ছিলেন তিনি। দালাল চক্র তাদের বড় নৌকায় নিরাপদে পাঠানোর কথা দিলেও বাস্তবে একটি ছোট নৌকায় গাদাগাদি করে আটকে রাখে। দীর্ঘ যাত্রায় খাবার ও পানির চরম সংকট দেখা দেয় এবং প্রতিকূল পরিবেশে একে একে ১৮ জন বাংলাদেশি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তবে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করে এবং ভাগ্যক্রমে আব্দুল কাদির বেঁচে ফিরতে সক্ষম হন।
কাদিরের মা আম্বিয়া খাতুন বলেন, “দালালরা আমার ছেলেকে খাবারের ব্যবস্থা না করে ছোট নৌকায় পাঠায়। ১৮ জন মারা গেলেও আমার ছেলে ভাগ্যক্রমে বেঁচে ফিরেছে।” ছেলের ফিরে আসায় পরিবারে স্বস্তি ফিরলেও ১৫ লাখ টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। ধারদেনা করে বিদেশ পাঠিয়ে এখন কাজ না পেয়ে খালি হাতে ফেরায় পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিলভিয়া স্নিগ্ধা নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে পরিবারের খোঁজ-খবর নিয়েছেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অষ্টগ্রাম সদর ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু বলেন, “পুরো গ্রাম শোকাহত, তবে কাদিরের বেঁচে ফেরা আমাদের মাঝে স্বস্তির আলো দিয়েছে।”












































