
ইরানে সরকারপন্থী সমর্থকরা রাস্তায় নেমে উদযাপন করেছে
ইরানে সরকারপন্থী সমর্থকরা রাস্তায় নেমে উদযাপন করেছে সেই গণভোটের বার্ষিকী, যা প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে ইসলামিক রিপাবলিকের ভিত্তি সুদৃঢ় করেছিল। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকায় দেশজুড়ে উত্তেজনাও বিরাজ করছে।
গেলো মঙ্গলবার রাতে রাজধানী তেহরানে ইসলামিক রিপাবলিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে যোগ দেন প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ১৯৭৯ সালের এই দিনে অনুষ্ঠিত গণভোটে ৯৮.২ শতাংশ ভোট পেয়ে ইরানে ইসলামিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।
এর কিছুক্ষণ পর, বুধবার ভোরে, যুক্তরাষ্ট্র তেহরানে অবস্থিত সাবেক মার্কিন দূতাবাস এলাকায় বোমা হামলা চালায়। ইসলামিক রিপাবলিক দিবসের প্রতীকী গুরুত্বের সঙ্গে এ হামলার যোগসূত্র থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ফুটেজে ধ্বংসস্তূপ, ধোঁয়া এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে। এলাকাটি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দ্বারা সুরক্ষিত।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে ১৫০ মিটার উঁচু এবং ৩০০ কেজি ওজনের একটি বিশাল জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়, যা দেশটির সর্বোচ্চ ও ভারী পতাকা বলে দাবি করা হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান করছেন, তবে আলোচনার প্রস্তাবে এখনও সাড়া দেননি।
ইমাম খোমেনির পুত্র হাসান খোমেনি বলেন, যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন রাতে রাস্তায় উপস্থিত থাকা তাদের ধর্মীয় দায়িত্ব। তিনি বলেন, শত্রু আমাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে নানা ষড়যন্ত্র করতে পারে, কিন্তু আমাদের ঘাঁটি হলো মসজিদ, গলি, চত্বর ও রাস্তাঘাট।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেখা গেছে, বিভিন্ন শহরে মানুষ ‘আমেরিকার মৃত্যু’ ও ‘ইসরায়েলের মৃত্যু’ স্লোগান দিচ্ছে, পাশাপাশি ধর্মীয় স্লোগানও দিচ্ছে।
সরকারি আহ্বানে মানুষ দলবদ্ধভাবে মিছিল করছে এবং জাতীয় পতাকা উড়াচ্ছে। ধর্মীয় সংগীতশিল্পীরা শিয়া ইসলামের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের নিয়ে গান পরিবেশন করছেন।
এদিকে, আইআরজিসি ও ইরাকের হাশদ আল-শাবি (পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস)-এর সঙ্গে যুক্ত ধর্মীয় ও সামরিক ব্যক্তিত্ব হামিদ আল-হোসেইনি জানান, তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় ইরাকি নাগরিকরা ‘মোকেব’ নামে পরিচিত খাদ্য ও সেবাকেন্দ্র স্থাপন করেছে, যা ইরানি জনগণকে সহায়তা করছে।
এর আগে খুজেস্তান প্রদেশের বিভিন্ন শহরে হাশদ আল-শাবির সদস্যদের সামরিক পোশাকে সহায়তা কার্যক্রম চালাতে দেখা যায়। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এ সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তবে বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, ইরান সরকার বিদেশি মিত্র যোদ্ধাদের ব্যবহার করে অভ্যন্তরীণ বিরোধ দমন করে—যদিও সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করতে পারে—এমন ইঙ্গিতের মধ্যেও ইরান নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের হরমুজ প্রণালীর দ্বীপ, তেল-গ্যাস স্থাপনা কিংবা পারমাণবিক স্থাপনা দখলের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা থাকলেও তেহরান বলছে, তাদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুত রয়েছে।









































