
ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় দেশটির রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ১৩ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের কার্যালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রেসিডেন্ট আউন এই হামলাকে বর্বরোচিত উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এখন পর্যন্ত এই হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলার ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনার গুঞ্জন চলছে। তবে লেবানন সরকার তাদের অবস্থানে অনড়। দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তা সম্পূর্ণভাবে ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকরের ওপর নির্ভর করছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) তিনি বিবিসিকে স্পষ্ট করে বলেন, আগে যুদ্ধবিরতি হতে হবে, তবেই আলোচনায় বসবে লেবানন।

ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি সংলাপের ইতিহাস অত্যন্ত বিরল। সাধারণত দেশ দুটি দীর্ঘকাল ধরে যুক্তরাষ্ট্রের মতো মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকেই মার্কিন দূতেরা উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন, যদিও বৈঠকের সুনির্দিষ্ট দিন বা সময় এখনো নির্ধারিত হয়নি।
এদিকে আঞ্চলিক পরিস্থিতির জটিলতা আরও বেড়েছে। ইসরায়েল ইরানে হামলা বন্ধ করলেও লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে। ইরান এই পদক্ষেপকে ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন’ বলে দাবি করলেও ইসরায়েল তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
তেল আবিবের দাবি, লেবানন এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির অন্তর্ভুক্ত নয়। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই নাবাতিয়েহর এই রক্তক্ষয়ী হামলা শান্তি আলোচনার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।






































