রবিবার । এপ্রিল ১২, ২০২৬
এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক বিনোদন ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১:৪২ অপরাহ্ন
শেয়ার

চলে গেলেন ভারতের কিংবদন্তি শিল্পী আশা ভোঁসলে


Asha Bhosle

ভারত তথা উপ মহাদেশের কিংবদন্তি শিল্পী আশা ভোঁসলে মারা গেছেন। হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে ৯২ বছরে প্রয়াত হন তিনি।

আশা ভোঁসলে আরেক কিংবদন্তি শিল্পী লতা মুঙ্গেশকরের ছোট বোন।

গত ১১ এপ্রিল হৃদরোগে আক্রান্ত হলে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

আগামীকাল সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত তার মরদেহ তার নিজ বাসভবনে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। বিকেল ৪টায় মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

আশা ভোঁসলে। শুধু ভারত নয়, উপমহাদেশ তথা পুরো বিশ্বসঙ্গীতের এক অনন্য নাম। ১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ভারতের মহারাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেন এই কিংবদন্তি শিল্পী। বাবা পণ্ডিত দীননাথ মঙ্গেশকর ছিলেন একজন শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী ও অভিনেতা। অল্প বয়সে বাবাকে হারানোর পর বড় বোন, আরেক কিংবদন্তি শিল্পী লতা মঙ্গেশকরের হাত ধরে তার সঙ্গীতজীবন শুরু।

মাত্র ১০ বছর বয়সে ১৯৪৩ সালে মারাঠি চলচ্চিত্রে তার সঙ্গীতজীবনের শুরু। ১৯৪৮ সালে অভিষেক হয় হিন্দি ছবিতে। এর পরের বছরই বলিউডে তার প্রথম একক গান প্রকাশিত হয়।

পঞ্চাশ, ষাট ও সত্তরের দশককে বলিউডের স্বর্ণযুগ বলা হয়। সেসময় বলিউডের অন্যতম কণ্ঠ হিসেবে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। লতা মঙ্গেশকর, মোহাম্মদ রফি, কিশোর কুমার, মুকেশ ও মান্না দে’র মতো শিল্পীদের সঙ্গে সঙ্গীত জগৎকে সমৃদ্ধ করেন।

আশা ভোঁসলের কণ্ঠ ছিল বহুমাত্রিক—ফিল্মি গান, পপ, শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, ভজন, গজল, লোকসংগীত, কাওয়ালি থেকে রবীন্দ্রসঙ্গীত—সব ধারাতেই তিনি সমান পারদর্শী ছিলেন। তিনি হিন্দি এবং বাংলা সহ ২০টিরও বেশি ভাষায় গান রেকর্ড করেন এবং তার গাওয়া গানের সংখ্যা ১২ হাজারেরও বেশি।

আশা ভোঁসলের সঙ্গীতজীবন ছিল বৈচিত্র্যে ভরপুর। ও.পি. নয়্যার-এর সঙ্গে তার কাজ “আও হুজুর তুমকো” যেমন ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। আবার আর.ডি. বর্মণের সঙ্গে “চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে” আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থান করে আছে।

“পিয়া তু আব তো আজা”, দম মারো দম, এবং “ইয়ে মেরা দিল” গানের মাধ্যমে তিনি বলিউডে নতুন ধারা তৈরি করেন। একই সঙ্গে “ইন আঁখোঁ কি মাস্তি” ও “দিল চিজ কিয়া হ্যায়”-এর মতো গানে তার শাস্ত্রীয় দক্ষতা স্পষ্ট হয়।

আবার নব্বইয়ের দশকে এ.আর. রহমানের সঙ্গে “তানহা তানহা” ও “রঙ্গীলা রে” গান দুটিও তুমুল জনপ্রিয় হয়। এছাড়া আদনান সামির সঙ্গে গাওয়া “কভি তো নজর মিলাও” গানটি আজও শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।

ভারতের সঙ্গীতে তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০০০ সালে ভারতের চলচ্চিত্র জগতের সর্বোচ্চ সম্মান দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার এবং ২০০৮ সালে ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরষ্কার পদ্ম বিভূষণ লাভ করেন। এছাড়া দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

৯২ বছরের জীবনে আশা ভোঁসলে নিজেকে সঙ্গীত জগতের এক উজ্জল নক্ষত্রের পরিণত করেছেন। মৃত্যু সেই নক্ষত্রের সামনে চলা হয়তো থামিয়ে দেবে সত্যি কিন্তু নক্ষত্রের উজ্জ্বলতা কমাতে পারবে এতটুকোও।