বুধবার । এপ্রিল ১৫, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ৭:২৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

ভয়াবহ মন্দার ঝুঁকিতে বিশ্ব অর্থনীতি: আইএমএফ


World-Economics

সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করে বলেছে, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এবং জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য অব্যাহত থাকলে বিশ্ব অর্থনীতি ভয়াবহ মন্দার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সংস্থাটির ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে এ আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ব অর্থনীতি বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। চলতি বছর এবং আগামী বছরও তেল, গ্যাস ও খাদ্যপণ্যের দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে। এতে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশের নিচে নেমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে, যা ১৯৮০ সালের পর সম্ভাব্য পঞ্চম বড় বৈশ্বিক মন্দা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। আইএমএফ বলছে, তেলের দাম এ বছর গড়ে ১১০ ডলার এবং আগামী বছর ১২৫ ডলারে পৌঁছালে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক স্থবিরতা আরও তীব্র হবে।

এ অবস্থায় ২০২৭ সালে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, ফলে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হবে। তবে সংকট দ্রুত সমাধান হলে এবং জ্বালানি রপ্তানি স্বাভাবিক হলে ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধি ৩.১ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে, যা আগের পূর্বাভাসের চেয়ে কম।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উপসাগরীয় তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়বে। ইরানের অর্থনীতি এ বছর ৬.১ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে, যদিও যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলে ২০২৭ সালে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, এলএনজি সরবরাহকারী কাতারের অর্থনীতিও বড় ধাক্কার আশঙ্কায় রয়েছে।

আইএমএফের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে জ্বালানি অবকাঠামো এবং হরমুজ প্রণালি-নির্ভরতার ওপর। বিকল্প রপ্তানি পথ থাকায় সৌদি আরব কিছুটা স্থিতিশীল থাকতে পারে, তবে অধিকাংশ দেশের ভাগ্য নির্ধারিত হবে আগামী কয়েক মাসে জ্বালানি পরিবহন কত দ্রুত স্বাভাবিক হয় তার ওপর।

সূত্র: বিবিসি