শনিবার । এপ্রিল ১৮, ২০২৬
প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৬:৩৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পেতে ‘সমকামী’ সাজছেন অভিবাসীরা, আছেন বাংলাদেশিও


UK Visa

ফাইল ছবি

যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পাওয়ার পথ সহজ করতে একদল আইনজীবী ও পরামর্শদাতা অভিবাসীদের ‘সমকামী’ পরিচয় দিতে সহায়তা করছেন বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। এক গোপন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, একটি বিশেষ চক্র মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে অভিবাসীদের ভুয়া গল্প সাজাতে এবং মিথ্যা প্রমাণ জোগাড় করতে সরাসরি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই গোপন নেটওয়ার্কটি অভিবাসীদের কাছ থেকে হাজার হাজার পাউন্ড হাতিয়ে নিচ্ছে। তাদের শেখানো হচ্ছে কীভাবে ইন্টারভিউতে মিথ্যা বলতে হবে এবং কীভাবে ভুয়া সমর্থনপত্র, ছবি বা চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি তৈরি করে নিজেদের সমকামী হিসেবে প্রমাণ করতে হবে।

বিশেষ করে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মতো দেশে সমকামিতা সামাজিকভাবে বিতর্কিত বা আইনত নিষিদ্ধ হওয়ায়, এই দেশগুলোর নাগরিকদের জীবন ঝুঁকির দোহাই দিয়ে আশ্রয়ের আবেদন করানো হচ্ছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মূলত যাদের স্টুডেন্ট, ওয়ার্ক বা ভিজিট ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, তারাই এই প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছেন। বর্তমানে যুক্তরাজ্যে মোট আশ্রয় আবেদনের প্রায় ৩৫ শতাংশই এই ধরনের। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বিবিসির অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, কিছু আইনি প্রতিষ্ঠান ৫ থেকে ৭ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত ফি নিয়ে এই ভুয়া আবেদনগুলো তৈরি করছে। এমনকি একজন পরামর্শদাতা দাবি করেছেন, তিনি গত ১৭ বছর ধরে এ ধরনের কাজে যুক্ত। ছদ্মবেশী এক প্রতিবেদককে পরামর্শ দেওয়া হয় যে, নিজে আশ্রয় পাওয়ার পর তার স্ত্রীকেও একইভাবে ভুয়া দাবি তুলে যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসা সম্ভব।

এই ভয়াবহ জালিয়াতির খবরে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, যারা আশ্রয় ব্যবস্থার অপব্যবহার করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের সুসংগঠিত প্রতারণা কেবল আইনি ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, বরং যারা প্রকৃতপক্ষে বিপদে পড়ে আশ্রয় খুঁজছেন, তাদের জন্যও পথ কঠিন করে তুলছে।