শুক্রবার । এপ্রিল ২৪, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক শিক্ষা ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৭ অপরাহ্ন
শেয়ার

কুমিল্লা পলিটেকনিকে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, আহত ১৫


comilla-polytechnic

ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ঘটা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, ক্যাম্পাসে ‘গুপ্ত শিবির’ বলাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে নাফিস আব্দুল্লাহ নামে এক শিক্ষার্থীকে কয়েকজন শিক্ষার্থী থাপ্পড় মারে। এই ঘটনার বিচার চেয়ে সন্ধ্যায় অধ্যক্ষের কক্ষে যান ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। অধ্যক্ষ মাজারুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তবে ছাত্রশিবির তাৎক্ষণিক বিচারের দাবিতে অনড় থাকলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তা একপর্যায়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালীন লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কুমিল্লা মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাসান আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, “সারা দেশে ছাত্রদলের ‘গুপ্ত’ লেখার কর্মসূচি চলাকালে আমাদের কর্মী নাফিস আব্দুল্লাহকে মারধর করা হয়। পরে অধ্যক্ষের কাছে মারধরের ভিডিও চাইতে গেলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছাত্রশিবিরের উপর হামলা করে। হামলায় পলিটেকনিক ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও সেক্রেটারি উভয়ই গুরুতর আহত হয়েছেন।”

অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে কুমিল্লা পলিটেকনিক ছাত্রদলের সভাপতি ইমন আহমেদ জানান, এটি মূলত সাধারণ শিক্ষার্থীদের দুটি পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও সংঘর্ষের ঘটনা। তিনি দাবি করেন, বিকেলে হলের দুই শিক্ষার্থীর সাথে অন্য একজনের ঝামেলার জেরে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

কুমিল্লা পলিটেকনিক্যালের অধ্যক্ষ মাজারুল ইসলাম জানান, “বিকেলে একজনকে থাপ্পড় মারাকে কেন্দ্র করেই মূলত সংঘর্ষের সূত্রপাত। কোনো পক্ষকেই ক্যাম্পাসে স্লোগান দিতে দেখা যায়নি। আমি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলাম, কিন্তু কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগেই সংঘর্ষ বেধে যায়।”

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার (ওসি তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। আহতদের সঠিক সংখ্যা ও ঘটনার বিস্তারিত আমরা খতিয়ে দেখছি।” ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।