
ছবি: সংগৃহীত
তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। প্রায় ৬০ বছর ধরে জোটটির সদস্য থাকার পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। আগামী ১ মে থেকে এ পদত্যাগ কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। খবর বিবিসির।
আমিরাতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতির কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ওপেকের অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য এবং সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত আমিরাতের এই পদক্ষেপ জোটটির জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আঞ্চলিক ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দু এবং ওয়াশিংটনের অন্যতম মিত্র আমিরাত এমন এক সময়ে এই সিদ্ধান্ত নিল, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। বিশেষ করে ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা এবং এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তে সংকটে পড়েছে উপসাগরীয় দেশগুলো। আমিরাতের অভিযোগ, যুদ্ধের এই সংকটময় সময়ে ইরানের হামলা থেকে তাদের রক্ষা করতে প্রতিবেশী আরব দেশগুলো যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে না।
আঞ্চলিক কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যেই আমিরাতের এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ের আঞ্চলিক অস্থিরতা এবং মিত্র দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষও এই সিদ্ধান্তের পেছনে প্রভাব ফেলতে পারে।
১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত ওপেক বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের এক-তৃতীয়াংশের বেশি নিয়ন্ত্রণ করে। আমিরাত বেরিয়ে যাওয়ার ফলে এই জোটের সদস্য সংখ্যা এখন ১১-তে নেমে আসবে। বর্তমান সদস্যরা হলো—সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, কুয়েত, ভেনেজুয়েলা, আলজেরিয়া, লিবিয়া, নাইজেরিয়া, গ্যাবন, ইকুইটোরিয়াল গিনি এবং কঙ্গো প্রজাতন্ত্র।









































