বুধবার । মে ৬, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক বিনোদন ৬ মে ২০২৬, ৩:৫৩ অপরাহ্ন
শেয়ার

দশকজুড়ে বিদেশি কার্টুন বানানো কোরিয়া এবার নিজেদের গল্প দেখাতে চায় বিশ্বকে


cartoon

দক্ষিণ কোরিয়া সরকার আগামী পাঁচ বছরে এই খাতে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে

দীর্ঘ চার দশক ধরে উত্তর আমেরিকার জনপ্রিয় অনেক অ্যানিমেটেড কার্টুনের পেছনে নীরবে কাজ করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্পীরা। এই অ্যানিমেটররা সাধারণত একটি পর্বের প্রায় ৩০ হাজার ফ্রেমের বড় অংশ আঁকেন। তবে এত দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও, নিজেদের মৌলিক অ্যানিমেশন তৈরি করে দেশ-বিদেশের দর্শকের মন জেতায় তারা এতদিন পিছিয়ে ছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তিগত দক্ষতা থাকলেও সৃজনশীল স্বাধীনতার অভাবই ছিল এর মূল কারণ। তবে এখন সেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে K-Pop Demon Hunters–এর মতো কাজের সাফল্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—কেন দক্ষিণ কোরিয়ার নিজস্ব বড় অ্যানিমেশন হিট নেই? এই খাতকে এগিয়ে নিতে সরকারও প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে।

বিদেশি প্রজেক্ট থেকে দেশীয় উদ্যোগে ঝোঁক
দক্ষিণ কোরিয়ার অ্যানিমেশন খাতে গুরুত্বপূর্ণ নাম নেলসন শিন। তার স্টুডিও একসময় “The Simpsons”, “Batman: The Animated Series”–সহ বহু জনপ্রিয় কার্টুনে কাজ করেছে। ১৯৮০–৯০-এর দশকে কম খরচের কারণে কোরিয়ায় আউটসোর্সিং বেড়ে যায়। তবে সময়ের সঙ্গে শ্রম খরচ বাড়ায় এই বাজার কমতে শুরু করে।

এর ফলে দেশীয় অ্যানিমেশন তৈরির দিকে ঝোঁক বাড়লেও বিনিয়োগ ও দর্শকের আগ্রহ—দুটোরই ঘাটতি ছিল। ২০০৫ সালে তৈরি “Empress Chung” সমালোচকদের প্রশংসা পেলেও বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়। এর আগেও “Wonderful Days”–এর ব্যর্থতা বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমিয়ে দেয়।

নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের চ্যালেঞ্জ
নতুন প্রজন্মের নির্মাতা জিওন হান তার অ্যানিমেশন “Lost in Starlight” দিয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন। এটি নেটফ্লিক্সের প্রথম কোরিয়ান অ্যানিমেশন। তবে তিনি বলেন, কোরিয়ায় এখনও অনেকেই অ্যানিমেশনকে শুধু শিশুদের বিনোদন হিসেবেই দেখে।

তবে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের কারণে এখন প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য অ্যানিমেশন তৈরির সুযোগ বাড়ছে। একই সঙ্গে জাপানের “Your Name” বা “Suzume”–এর মতো সফল চলচ্চিত্রও কোরিয়ান নির্মাতাদের অনুপ্রাণিত করছে।

প্রযুক্তির ব্যবহারে নতুন সম্ভাবনা
অন্যদিকে কোরিয়ান পরিচালক সিয়ং-হো জাং তার “The King of Kings” চলচ্চিত্রে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কম বাজেটে বড় সাফল্য পেয়েছেন। প্রায় ২৫ মিলিয়ন ডলারে নির্মিত এই অ্যানিমেশন বিশ্বজুড়ে ৮৩ মিলিয়নের বেশি আয় করেছে।

তিনি নতুন প্রযুক্তি যেমন Unreal Engine ব্যবহার করে অ্যানিমেশন প্রক্রিয়াকে সহজ ও কম খরচে সম্ভব করেছেন। বর্তমানে তিনি আরও নতুন প্রজেক্ট ও প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করছেন।

সরকারি সহায়তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
দক্ষিণ কোরিয়া সরকার আগামী পাঁচ বছরে এই খাতে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে। লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে অ্যানিমেশন খাতের আয় বাড়ানো, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান তৈরি করা।

এখন ধীরে ধীরে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। নতুন নতুন স্টুডিও নিজেদের গল্প ও আলাদা স্টাইল তৈরি করছে। নির্মাতারা মনে করছেন, আউটসোর্সিং নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে সৃজনশীল শিল্পে রূপান্তরের এটাই গুরুত্বপূর্ণ সময়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যথাযথ সহায়তা ও বিনিয়োগ অব্যাহত থাকলে খুব শিগগিরই দক্ষিণ কোরিয়ার নিজস্ব অ্যানিমেশনও বিশ্বজুড়ে বড় সাফল্য পেতে পারে।