সোমবার । মে ১১, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ১১ মে ২০২৬, ১:৫১ অপরাহ্ন
শেয়ার

ইরান যুদ্ধ যেসব কারণে চীনের জন্য শিক্ষনীয়


Iran war

বিশেষজ্ঞরা এও বলছেন, যুদ্ধের আরেকটি বড় শিক্ষা হলো—সামরিক বিজয় সবসময় রাজনৈতিক সফলতা নিশ্চিত করে না

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশল ও অভিজ্ঞতা থেকে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিচ্ছে চীন। বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে যে আধুনিক যুদ্ধে শুধু উন্নত অস্ত্র থাকলেই যথেষ্ট নয়, প্রতিপক্ষের কৌশল ও বাস্তব যুদ্ধের অভিজ্ঞতাও বড় ভূমিকা রাখে।

ইরান যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে, তা চীনের জন্য সতর্কবার্তা।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন তার সামরিক শক্তি দ্রুত বাড়িয়েছে। দেশটি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, স্টেলথ যুদ্ধবিমান এবং ড্রোন প্রযুক্তিতে বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে তাইওয়ান ইস্যুকে ঘিরে সম্ভাব্য চীন-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে ড্রোন যুদ্ধ বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গবেষকরা মনে করেন, চীন বিপুল সংখ্যক ড্রোন ও দূরপাল্লার রকেট ব্যবহার করে তাইওয়ানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান চালাতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও তাইওয়ান প্রণালীতে হাজার হাজার ড্রোন মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলে জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা এও বলছেন, যুদ্ধের আরেকটি বড় শিক্ষা হলো—সামরিক বিজয় সবসময় রাজনৈতিক সফলতা নিশ্চিত করে না। ইরানের ওপর ব্যাপক সামরিক চাপ সৃষ্টি করেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান পায়নি।

এছাড়া চীনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বাস্তব যুদ্ধের অভিজ্ঞতার অভাব। ১৯৭৯ সালে ভিয়েতনামের সঙ্গে যুদ্ধের পর থেকে চীনের সেনাবাহিনী আর কোনো বড় যুদ্ধে অংশ নেয়নি। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ইরাক, আফগানিস্তানসহ একাধিক যুদ্ধে অংশ নিয়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে যে আঞ্চলিক সংঘাত খুব দ্রুত বৈশ্বিক সংকটে পরিণত হতে পারে। বিশেষ করে তাইওয়ান নিয়ে কোনো সংঘাত শুরু হলে তা বিশ্ব বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

বাংলা টেলিগ্রাফ ভিজ্যুয়াল