সোমবার । মে ১৮, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ১৮ মে ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

আরব আমিরাতের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলা


UAE

এই হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কেউ স্বীকার করেনি

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পার্শ্ববর্তী এলাকায় ড্রোন হামলা থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার নাজুক যুদ্ধবিরতির মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রোববার (১৭ মে) আবুধাবি কর্তৃপক্ষ জানায়, আল দাফরা অঞ্চলে অবস্থিত বারাকাহ পারমাণবিক কেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে একটি বৈদ্যুতিক জেনারেটরে আগুন লাগে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি এবং তেজস্ক্রিয়তার মাত্রাও স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ইউএইর পারমাণবিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, আরব উপদ্বীপের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই স্থাপনার কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সংস্থাটি জানায়, ‘সব ইউনিট স্বাভাবিকভাবে চালু রয়েছে।’

এই হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কেউ স্বীকার করেনি। ইউএইও এখন পর্যন্ত কোনো দেশকে দায়ী করেনি।

এক বিবৃতিতে ইউএইর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুটি ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করেছে। তবে তৃতীয় একটি ড্রোন বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে থাকা একটি জেনারেটরে আঘাত হানে।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ড্রোনগুলো ‘পশ্চিম সীমান্ত’ থেকে ছোড়া হয়েছিল। তবে এর বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। হামলার উৎস শনাক্তে তদন্ত চলছে বলেও জানানো হয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, এ ঘটনার কারণে কেন্দ্রটির একটি রিয়্যাক্টর সাময়িকভাবে জরুরি ডিজেল জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়।

সৌদি আরব সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি আবুধাবি শহর থেকে প্রায় ২২৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত।

প্রতিবেশী কাতার এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে ‘আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ এবং ‘আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি’ বলে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে দোহা।

গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণার পরও ইউএইকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে।

গত সপ্তাহে ইউএই কর্তৃপক্ষ ইরানের বিরুদ্ধে ফুজাইরাহ বন্দরনগরীতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অভিযোগ তোলে। ওই হামলায় তিন ভারতীয় নাগরিক আহত হন এবং ফুজাইরাহ অয়েল ইন্ডাস্ট্রি জোনে আগুন লাগে।

এর আগে ইরান সতর্ক করেছিল, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি বা ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট স্বার্থকে আশ্রয় দেবে, তারা হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।