সোমবার । মে ১৮, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ১৮ মে ২০২৬, ১:৩৩ অপরাহ্ন
শেয়ার

ট্রাম্পের নতুন যুদ্ধ হুমকিতে উত্তপ্ত ইরান, রাস্তায় সমাবেশ, টেলিভিশনে অস্ত্র প্রশিক্ষণ


Iran war

তেহরানের অভিজাত এলাকা তাজরিশ স্কয়ারে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর হাজারো মানুষ ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ স্লোগানে অংশ নিচ্ছেন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেওয়ার পর ইরানে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন শহরে সরকার সমর্থিত বিক্ষোভ ও সমাবেশ জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে জনসাধারণের জন্য অস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণও শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ, যা সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

তেহরানের অভিজাত এলাকা তাজরিশ স্কয়ারে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর হাজারো মানুষ ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ স্লোগানে অংশ নিচ্ছেন। সমাবেশ ঘিরে রাস্তার পাশে চা, পতাকা ও দেশপ্রেমমূলক স্মারক সামগ্রী বিক্রি করতে দেখা যায় ব্যবসায়ীদের।

সমাবেশে অংশ নেওয়া তিয়ানা নামের এক তরুণী বলেন, ‘দেশ ও জনগণের জন্য জীবন দিতেও প্রস্তুত আমি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সেনাবাহিনী ও কমান্ডাররাও লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত।’

সম্প্রতি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইরানের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে তাদের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’

তার এই বক্তব্য স্থবির শান্তি আলোচনা ও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

তাজরিশ স্কয়ারে সমাবেশে অংশ নেওয়া এক বৃদ্ধ ফারসি ভাষায় লেখা নিজের প্ল্যাকার্ড দেখিয়ে বলেন, ‘পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি আমাদের সীমান্তের মতোই গুরুত্বপূর্ণ, তাই আমরা তা রক্ষা করব।’

ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ হামলার গুঞ্জনের মধ্যেই দেশটিতে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। লন্ডন ও দুবাইয়ে বেড়ে ওঠা ফাতিমা নামের এক ইরানি নারী বলেন, ‘আমরা জানি যুদ্ধ শেষ হয়নি। ট্রাম্প আসলে আলোচনায় বিশ্বাস করেন না।’

গত প্রায় তিন মাস ধরে ইরানে প্রতিদিন সন্ধ্যায় এসব ‘নাইট গ্যাদারিং’ বা রাতের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নতুনভাবে দেখা যাচ্ছে জনসম্মুখে অস্ত্র প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। রাজধানীর ভানাক স্কয়ারে একটি বুথে নারীদের একে-৪৭ রাইফেল চালানো ও খুলে জোড়া লাগানোর প্রশিক্ষণ দিতে দেখা গেছে। এমনকি শিশুদেরও খেলাচ্ছলে অস্ত্র ধরতে দেখা যায়।

iran TV channel

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনেও যুদ্ধ প্রস্তুতির বার্তা প্রচার করা হচ্ছে। সরকারি ওফোগ চ্যানেল-এর উপস্থাপক হোসেইন হোসেইনি সরাসরি সম্প্রচারে স্টুডিওর ছাদে গুলি ছুড়ে অস্ত্র ব্যবহারের প্রদর্শন করেন। তার পাশে ছিলেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর এক মুখোশধারী সদস্য।

তবে সব ইরানিই যুদ্ধ চান না। তাজরিশ স্কয়ারের কাছেই শান্ত পরিবেশে পার্কে ঘুরতে আসা অনেকেই যুদ্ধবিরোধী মত প্রকাশ করেন।

নিজের পরিচয় গোপন রাখা এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক বলেন, ‘আমরা শুধু একটি স্বাভাবিক দেশে বাঁচতে চাই, যেখানে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ থাকবে।’ আরেক তরুণীর ভাষায়, ‘আমরা শান্তি চাই।’

তবে ইরানে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে শান্তির কণ্ঠস্বর ধীরে ধীরে কঠোর রাষ্ট্রীয় বার্তার আড়ালে চাপা পড়ে যাচ্ছে।

বাংলা টেলিগ্রাফ ভিজ্যুয়াল