
কামি রিতা শেরপা লাকপা শেরপা
বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট আরোহণে নতুন ইতিহাস গড়েছেন দুই নেপালি পর্বতারোহী। ‘এভারেস্ট ম্যান’ নামে পরিচিত কামি রিতা শেরপা ৩২তম বারের মতো এভারেস্ট জয় করে নিজেরই গড়া বিশ্বরেকর্ড ভেঙেছেন। একই দিনে ‘মাউন্টেন কুইন’ খ্যাত লাকপা শেরপা ১১তমবার এভারেস্টে আরোহণ করে নারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ শৃঙ্গ জয়ের নিজস্ব রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করেছেন।
৫৬ বছর বয়সী কামি রিতা শেরপা রোববার (১৭ মে) পর্বতারোহীদের একটি দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ৮ হাজার ৮৪৯ মিটার উচ্চতার এভারেস্ট শৃঙ্গে পৌঁছান। ১৯৯৪ সালে প্রথমবার এভারেস্ট জয়ের পর থেকে প্রায় প্রতি বছরই তিনি শৃঙ্গটিতে আরোহণ করেছেন। কয়েক বছরে তিনি দুইবারও এভারেস্ট জয় করেন।
নেপালের সোলুখুম্বু অঞ্চলের এক পর্বতারোহী পরিবারে জন্ম নেওয়া কামি রিতা ২০১৮ সালে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ২২তমবার এভারেস্ট জয়ের রেকর্ড গড়েন।
অন্যদিকে, ৫২ বছর বয়সী লাকপা শেরপা প্রথমবার এভারেস্ট জয় করেন ২০০০ সালে। তিনি ছিলেন প্রথম নেপালি নারী যিনি সফলভাবে এভারেস্ট শৃঙ্গে পৌঁছে নিরাপদে ফিরে আসেন। তার জীবন ও একাধিক এভারেস্ট জয়ের কাহিনি নিয়ে ২০২৩ সালে নির্মিত হয় প্রামাণ্যচিত্র ‘মাউন্টেন কুইন’।
দুই পর্বতারোহীকে অভিনন্দন জানিয়ে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘তারা আবারও ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। অটুট সাহস, কঠোর আত্মনিয়ন্ত্রণ ও কাজের প্রতি নিষ্ঠা ছাড়া এমন ঐতিহাসিক সাফল্য সম্ভব নয়।’
চলতি মৌসুমে এভারেস্ট অভিযানে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। প্রায় ৫০০ বিদেশি পর্বতারোহীকে এভারেস্ট আরোহণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বেশিরভাগ আরোহীই অন্তত একজন নেপালি গাইডের সহায়তা নিয়ে অভিযানে অংশ নিচ্ছেন।
তবে এবারের অভিযানে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। নেপালের বেস ক্যাম্প থেকে শৃঙ্গে ওঠার পথে বিশাল ও ঝুঁকিপূর্ণ হিমবাহের অংশ জমে থাকায় রুট খুলতে দেরি হয়েছে। এতে এভারেস্টে ‘ট্রাফিক জ্যাম’ বা অতিরিক্ত ভিড়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।






































