
ছবি: সংগৃহীত
ওমানে প্রাইভেটকারের ভেতর এসি থেকে নির্গত বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার একই পরিবারের চার প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ অবশেষে দেশে এসে পৌঁছেছে।
গতকাল মঙ্গলবার (১৯ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মরদেহগুলো গ্রহণ করেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী। মরদেহ হস্তান্তরের সময় তিনি লাশবাহী গাড়ির কফিনের সামনে দাঁড়িয়ে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।
এমপি হুম্মাম কাদের চৌধুরী জানান, প্রাথমিকভাবে এটি সড়ক দুর্ঘটনা বলে খবর পাওয়া গেলেও পরবর্তীতে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, গাড়ির ত্রুটিপূর্ণ এয়ারকন্ডিশনিং (এসি) সিস্টেম থেকে নির্গত বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসের কারণেই চার ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত চার রেমিট্যান্স যোদ্ধা হলেন—শাহিদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম ও রাশেদুল ইসলাম। তারা রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বন্দেরাজাপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
সাধারণত বিদেশ থেকে মরদেহ দেশে আনা দীর্ঘমেয়াদী ও জটিল প্রক্রিয়া হলেও, এবার মাত্র চার দিনের মাথায় সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে মরদেহগুলো বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। দ্রুততম সময়ে মরদেহ দেশে আনার ক্ষেত্রে ওমানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রিয়ার অ্যাডমিরাল আজিমের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন হুম্মাম কাদের চৌধুরী। একই সাথে তিনি সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কেও ধন্যবাদ জানান।
তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের প্রতি পরিবারকে দাফন ও পরিবহন খরচ বাবদ ৩৫,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে, যেন নির্বিঘ্নে মরদেহগুলো রাঙ্গুনিয়াতে নিয়ে যাওয়া যায়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ বুধবার (২০ মে) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বন্দেরাজাপাড়া এলাকায় হোসনাবাদ লালানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে চার ভাইয়ের যৌথ নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যেই তাদের দাফনের জন্য বন্দেরাজাপাড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবর খনন করা হয়েছে। চার ভাইকে চিরনিদ্রায় শায়িত করতে এলাকায় এখন শোকের মাতম চলছে
পাঁচ ভাইয়ের সংসারের মধ্যে নিহতদের দুজন বিবাহিত ছিলেন। বাকি তিনজনের মধ্যে দুই ভাইয়ের বিয়ের প্রস্তুতিও প্রায় শেষ হয়েছিল। কিন্তু প্রবাসের মাটিতে এক রাতেই নিভে গেল একটি পরিবারের সব স্বপ্ন।












































