
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মাণ্ডায় পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় সৌদি প্রবাসী মোকাররম মিয়ার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার মূল আসামি হেলেনা বেগম আদালতে নিজের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় হেলেনার মেয়ে হালিমা আক্তারকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুগদা থানার উপপরিদর্শক এনামুল হক মিঠু আসামিদের আদালতে হাজির করেন। হেলেনা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন তা রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অপরদিকে, ঢাকার ৫ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মনিরুজ্জামানের আদালত হালিমাকে কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মারুফুজ্জামান আদালতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহত মোকাররম মিয়ার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের তালশহরে। এ ঘটনায় তার চাচা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মুগদা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন।
এর আগে সোমবার বিকেলে র্যাব-৩ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক ও গা শিউরে ওঠা রহস্য তুলে ধরেন স্কোয়াড্রন লিডার মো. সাইদুর রহমান। তিনি জানান, সৌদি আরবে থাকার সময় সহকর্মী সুমনের সুবাদে তার স্ত্রী তাসলিমা আক্তারের সঙ্গে মোকাররমের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। নিয়মিত অডিও-ভিডিও কলে কথা বলার পাশাপাশি মোকাররম বিভিন্ন সময়ে তাসলিমাকে ৫ লাখের বেশি টাকাও দেন।
গত ১৩ মে মোকাররম নিজ বাড়িতে না জানিয়ে দেশে ফিরে সরাসরি তাসলিমার বান্ধবী হেলেনার মুগদার মাণ্ডার ভাড়া বাসায় আসেন। সেদিন রাতে বিয়ে করা এবং টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে মোকাররম ও তাসলিমার মধ্যে প্রচণ্ড বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মোকাররম তাদের অসামাজিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। একই রাতে মোকাররম হেলেনার মেজো মেয়ে হালিমার সঙ্গে অসামাজিক কার্যকলাপের চেষ্টা করলে হেলেনা তা দেখে ফেলেন। এই জোড়া ক্ষোভ ও বিরোধ থেকেই তাসলিমা ও হেলেনা মিলে মোকাররমকে হত্যার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করে।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ মে সকালে নাশতার পানির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মোকাররমকে অচেতন করার চেষ্টা করা হয়। পরে ঘুমের ঘোর এলে হেলেনা তাকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন। তবে মোকাররম জেগে গিয়ে হেলেনার হাতে কামড়ে ধরে উল্টো গলা চেপে ধরলে তাসলিমা হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করতে যান। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে হেলেনা বটি দিয়ে মোকাররমের গলায় কোপ দিলে তিনি মেঝেতে পড়ে যান। এরপর হালিমা হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং হেলেনা বটি দিয়ে কুপিয়ে মোকাররমের মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
হত্যার পর বাথরুমে নিয়ে লাশ খণ্ডবিখণ্ড করে পলিথিন ও বস্তায় ভরে রাখা হয় এবং পুরো ঘর পরিষ্কার করা হয়। ওই দিন রাত সাড়ে ১১টায় লাশের ৭ টুকরো বাসার নিচের ময়লার স্তূপে এবং মাথার অংশ এক কিলোমিটার দূরে ফেলে দেওয়া হয়।
চরম নৃশংসতার এখানেই শেষ নয়; লাশ গুম করার পরদিন তারা সবাই বাইরে ঘুরতে যান ও রেস্টুরেন্টে খাওয়া-দাওয়া করেন। এমনকি রাতে বাসার ছাদে জমকালো পার্টি করে প্রতিবেশীদেরও দাওয়াত দেওয়া হয়। গত ১৭ মে বাসার নিচে মরদেহ থেকে পচা গন্ধ ছড়ালে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করার পর র্যাব অভিযান চালিয়ে হেলেনা ও হালিমাকে গ্রেপ্তার করে।















































