
ফাইল ছবি
আগামী ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ধাপে ধাপে এ বেতনকাঠামো কার্যকর করা হবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিন অর্থবছরে তিন ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম দুই অর্থবছরে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ করে বৃদ্ধি কার্যকর হবে এবং তৃতীয় ধাপে বিভিন্ন ভাতা সমন্বয় করা হবে। এ প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নতুন বেতনকাঠামোর প্রথম ধাপ বাস্তবায়নে অতিরিক্ত ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।
এর আগে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নে একটি বেতন কমিশন গঠন করা হয়। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের কমিশন গত ২১ জানুয়ারি তাদের সুপারিশ জমা দেয়। পরে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২৩ এপ্রিল নতুন করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়, যারা তিন ধাপে বেতন বাস্তবায়নের সুপারিশ দেয়।
প্রস্তাবিত বেতনকাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। তবে আগের মতোই ২০টি গ্রেড বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিব ও সিনিয়র সচিবদের জন্য বিদ্যমান ২০ গ্রেডের বাইরে আলাদা একটি বিশেষ ধাপ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। বিষয়টি পরে প্রজ্ঞাপন জারি করে কার্যকর করা হতে পারে।
মূল বেতন বাড়লে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতার পরিমাণও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ বৈশাখী ভাতা পেলেও নতুন প্রস্তাবে তা বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি যাতায়াত ভাতা এখন ১১তম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকলেও নতুন কাঠামোয় ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত এ সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি পেনশনভোগীরাও নতুন সুবিধার আওতায় আসতে পারেন। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন প্রায় দ্বিগুণ বাড়তে পারে। ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে।
এ ছাড়া ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনভোগীদের জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা এবং ৫৫ থেকে ৭৪ বছর বয়সীদের জন্য ৮ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে এসব প্রস্তাব চূড়ান্ত করার কাজ চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।











































