
রঙবাজার
বাইরে থেকে দেখতে জাঁকজমকপূর্ণ বা রঙিন মনে হলেও, ভেতরের গল্পটা শুধুই চরম শূন্যতার। যৌনপল্লির চার দেয়ালে বন্দি নারীদের জীবনের এমন আড়ালে থাকা ধূসর বাস্তবতাকে সেলুলয়েডের ফিতায় বন্দি করেছে সিনেমা ‘রঙবাজার’। চলতি বছর প্রেক্ষাগৃহে সফল মুক্তির পর এবার নতুন মাধ্যমে দর্শকদের সামনে এলো বহুল আলোচিত এই চলচ্চিত্রটি।
নির্মাতা রাশিদ পলাশ জানান, বড় পর্দার পর এবার ওটিটি প্ল্যাটফর্ম লাইভ টেকনোলজিসের ‘সিনেম্যাটিক’ অ্যাপে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি দেওয়া হয়েছে সিনেমাটি। গত রবিবার থেকে ওটিটি দর্শকরা ঘরে বসেই দেখতে পাচ্ছেন এই বিশেষ গল্পটি।
বছরের পর বছর ধরে এই পেশায় জড়িয়ে থাকা প্রবীণ নারী থেকে শুরু করে দেশের নানা প্রান্ত থেকে পাচার হয়ে আসা নতুন মেয়েদের জীবনের ভিন্ন ভিন্ন নির্মম অধ্যায় উঠে এসেছে এই সিনেমার গল্পে। চলচ্চিত্রটি প্রসঙ্গে পরিচালক রাশিদ পলাশ জানান, এটি মূলত পৃথিবীর হাজার বছরের পুরোনো এবং আদিমতম এক বৃত্তির গল্প। তবে শুধু শারীরিক সম্পর্কের সমীকরণ নয় বরং যৌনবৃত্তি যে মানুষের মগজেও কীভাবে গেঁথে রয়েছে, সেই মনস্তাত্ত্বিক দিকটিই এখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
এর মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে একটি যৌনপল্লি উচ্ছেদের নির্মম ঘটনা, যার পরতে পরতে জড়িয়ে আছে মানবিকতা আর কঠিন জীবনের ছোঁয়া। সিনেমার একটি অন্যতম প্রধান চরিত্রে তানজিকা আমিন নিজেকে মেলে ধরেছেন একজন যৌনকর্মীর ভূমিকায়। চরিত্রটি নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে তিনি জানান, ব্রোথেলের নারীদের জীবনকে বাইরে থেকে যতটা রঙিন দেখায়, ভেতরে তা পুরোটাই ফাঁকা। সেই রূঢ় বাস্তবতাকে উপলব্ধি করতেই দর্শকদের সিনেমাটি দেখা উচিত।
গোলাম রাব্বানীর চমৎকার চিত্রনাট্যে এবং লাইভ টেকনোলজিসের প্রযোজনায় এই সিনেমায় একজন গ্ল্যামারাস নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেছেন জান্নাতুল পিয়া। এছাড়াও সিনেমাটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন শম্পা রেজা, নাজনীন চুমকী, মৌসুমী হামিদ, লুৎফর রহমান জর্জ, বড়দা মিঠু এবং শাজাহান সম্রাটসহ আরও অনেকে।
নিখুঁত নির্মাণ আর শক্তিশালী অভিনয়ের মিশেলে ‘রঙবাজার’ ওটিটির পর্দায় দর্শকদের মনে ভিন্ন এক মানবিক দাগ কাটবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

















































