
শেষ দিনের সকালটা ছিল টানটান উত্তেজনায় ভরা। দ্বিতীয় টেস্ট জিততে বাংলাদেশের দরকার ছিল মাত্র ৩ উইকেট, আর পাকিস্তানের সামনে ছিল ১২১ রানের চ্যালেঞ্জ। শুরুতে পাকিস্তানের ব্যাটাররা আত্মবিশ্বাসী খেলায় ম্যাচটা নিজেদের দিকে টেনে নিচ্ছিল। গ্যালারিতে আর বাংলাদেশ শিবিরে তখন শঙ্কা—ইতিহাস কি তবে পাকিস্তানের পক্ষেই লেখা হবে?
কিন্তু কথায় আছে- ক্রিকেট কখনোই শেষ না হওয়া পর্যন্ত শেষ হয় না।
হঠাৎই বদলে যায় দৃশ্যপট। মাত্র ১২ বলের ব্যবধানে বাংলাদেশ তুলে নেয় শেষ ৩ উইকেট। স্তব্ধ হয়ে যায় পাকিস্তান, আর উল্লাসে ফেটে পড়ে বাংলাদেশ। শুধু সিরিজ জয় নয়, পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে টাইগাররা গড়ে নতুন ইতিহাস।
চতুর্থ ইনিংসে বল হাতে নায়ক ছিলেন তাইজুল ইসলাম। তিনি একাই তুলে নেন ৬ উইকেট। তবে এই জয়ে বড় অবদান ছিল লিটন দাসেরও। ম্যাচের প্রথম দিন বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে তার ১২৬ রানের ইনিংসই বাংলাদেশকে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ দেখায়।
পুরো সিরিজজুড়ে দারুণ ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ। পেসাররা যেমন প্রশংসা কুড়িয়েছেন, তেমনি স্পিনাররাও দায়িত্ব পালন করেছেন দুর্দান্তভাবে। অভিজ্ঞ তাইজুল শেষ সকালে পাকিস্তানের শেষ তিন উইকেটের মধ্যে দুটি তুলে নিয়ে জয়ের পথ সহজ করেন।
দিনের শুরুতে মোহাম্মদ রিজওয়ান প্রায় এক ঘণ্টা বাংলাদেশকে চাপে রাখেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাইজুলের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ২৮ রান করে ফেরেন সাজিদ খান। এরপরের ওভারেই শরিফুল ইসলামের বলে গালিতে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ক্যাচ দেন রিজওয়ান। ৯৪ রানে থামে তার দারুণ লড়াকু ইনিংস। দিনের প্রথম ওভারেই রিজওয়ানের একটি কঠিন ক্যাচ ফেলেছিলেন মিরাজ, আর সাজিদের একটি টপএজ লিটনের সামনে পড়েও বেঁচে যায়।
শেষ উইকেটটিও নেন তাইজুল। তার বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ডিপ মিডউইকেটে অভিষিক্ত তানজিদ হাসানের হাতে ক্যাচ দেন খুররম শাহজাদ।
৪৩৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান দিন শুরু করেছিল ৩১৬/৭ স্কোর নিয়ে। শুরুতে ধাক্কা সামলেও লড়াই চালিয়ে যায় সফরকারীরা। ওপেনার আজান আওয়াইস ও আবদুল্লাহ ফজল দ্রুত ফিরলেও শান মাসুদ ও বাবর আজম মিলে তৃতীয় উইকেটে যোগ করেন ৯২ রান। বাবর ৪৭ রান করে মেহেদীর বলে লেগ সাইডে ক্যাচ দিলে ভাঙে জুটি। এরপর শর্ট লেগে ক্যাচ দিয়ে ৭১ রানে ফেরেন শান মাসুদ।
পরে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আগা ষষ্ঠ উইকেটে ১৩৪ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে চাপে ফেলেন। আক্রমণাত্মক বোলিং চালিয়ে যাওয়ায় এই সময়ে খুব কম মেডেন ওভার করতে পেরেছিল স্বাগতিকরা।
তবে দ্বিতীয় নতুন বল হাতে নিয়েই ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন তাইজুল। তার আর্ম বলে বোল্ড হন ৭১ রান করা সালমান আগা। এরপর রিজওয়ান চেষ্টা চালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সামনে দাঁড়াতে পারেননি পাকিস্তানের ব্যাটাররা।











































