বুধবার । জুন ৩, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ৩ জুন ২০২৬, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও সক্রিয় হয়েছেন, আলোচনা এগোচ্ছে: মার্কো রুবিও


mark-rubioo

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনার প্রেক্ষাপটে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মঙ্গলবার (২ জুন) মার্কিন সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্কবিষয়ক কমিটির শুনানিতে রুবিও বলেন, মোজতবা খামেনি জীবিত আছেন এবং বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে লিখিত বার্তা পাঠিয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সম্পৃক্ত রয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। যুদ্ধের প্রথম দিনে মার্কিন হামলায় তার বাবা ও সাবেক সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর থেকে তিনি প্রকাশ্যে দেখা দেননি।

রুবিওর এই মন্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নতুন প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে তেহরান। খবর অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবটির শর্ত আরও কঠোর করেছেন।

সিনেটে বক্তব্য দিতে গিয়ে রুবিও বলেন, বর্তমানে আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির এমন কিছু বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যেগুলো নিয়ে এক মাস আগেও তেহরান আলোচনা করতে রাজি ছিল না।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, আলোচনা এগোলেও তা গ্রহণযোগ্য কোনো চুক্তিতে পৌঁছাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

রুবিও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে আলোচনায় সম্মত হওয়া।

তবে শুধু হরমুজ প্রণালি খুলে দিলে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। তার ভাষায়, পারমাণবিক কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম মজুত বিষয়ে বড় ধরনের ছাড় না দিলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রশ্নই আসে না।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর এক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, তেহরান এখনও সর্বশেষ প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখছে এবং কয়েকদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণে আস্থার ঘাটতি থাকায় তারা বিষয়টি কঠোরভাবে বিবেচনা করছে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা বন্ধ হয়নি। মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা নিয়মিতভাবেই চলছে।

ট্রাম্প বলেন, সম্ভাব্য কোনো চুক্তির ক্ষেত্রে ইরানকে অবশ্যই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করতে হবে।

লেবাননে ইসরায়েলি হামলা নিয়ে ইরানের হুঁশিয়ারি
এদিকে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবারও দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত ছিল, যদিও একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আংশিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল।

ইরান দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেকোনো সমঝোতার অংশ হিসেবে লেবাননেও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে হবে।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, তিনি লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরিকে জানিয়েছেন যে, ইসরায়েল যদি লেবাননে হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে তেহরান শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা বন্ধই করবে না, বরং সরাসরি সংঘাতে জড়ানোর পথেও হাঁটতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা যেমন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর সুযোগ তৈরি করছে, তেমনি লেবানন ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।