
ছবি: সংগৃহীত
বিজিবির প্রতিরোধের মুখে বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্তে চারদিন ধরে পুশইনের উদ্দেশ্যে শূন্যরেখায় জড়ো করা ব্যক্তিদের অবশেষে সরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বুধবার (৩ জুন) সকালে তাদের সরিয়ে নেয়া হয় বলে খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে শূন্যুরেখা থেকে ওই ব্যক্তিদের সরিয়ে নেয়ার পর সীমান্ত থেকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবির অতিরিক্ত সদস্যও প্রত্যাহার করা হয়েছে। বর্তমানে সীমান্তের ওই এলাকায় স্বাভাবিক টহল চলছে।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (২ জুন) সাদিপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ পুশইনকে কেন্দ্র করে গত তিনদিন ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এসময় সীমান্তের শূন্যরেখায় বেশ কয়েকজন মানুষ আটকে থেকে মানবেতর জীবনযাপন ও করছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এসব ব্যক্তিকে বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করে কোনো ধরনের দ্বিপক্ষীয় নিয়ম-নীতি অনুসরণ না করেই বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করে। এ উদ্দেশ্যে তাদের সীমান্তের শূন্যরেখায় বসিয়ে রাখা হয়। খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ঝোপঝাড়ের মধ্যে অবস্থান করায় চরম দুর্ভোগে পড়েন তারা।
তবে আটকে থাকা ব্যক্তিরা বাংলাদেশি নাগরিক— এমন কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র বা তথ্য না পাওয়ায় তাদের গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নাগরিকত্ব যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
এর আগে রোববার (৩১ মে) রাতে বেনাপোল সীমান্তের ওপারে ভারতের হরিদাসপুর এলাকায় তিনটি ট্রাকে করে শতাধিক মানুষকে জড়ো করে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
এদিকে অবৈধ পুশইনের আশঙ্কায় বেনাপোল সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে বিজিবি। সীমান্তের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন, রাতের টহল বৃদ্ধি এবং আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়। যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী শনাক্তকরণ ও উচ্ছেদ কার্যক্রম জোরদার হওয়ার পর থেকে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তেও। বিশেষ করে ভারতে জন্মগ্রহণকারী ও দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত অনেক মানুষের নাগরিকত্ব নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।















































