
ফেনীর সেই শিক্ষিকাকে বিশেষ দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর
ফেনী পিটিআই স্কুল মাঠে বৃষ্টির মধ্যে ভিজে শিক্ষার্থীদের ফুটবল খেলায় উৎসাহ জোগানোর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন স্কুলশিক্ষিকা সৈয়দা খালেদা আক্তার পলি। মাঠের সেই অকৃত্রিম ক্রীড়াপ্রেম ও কড়া শৃঙ্খলার চিত্র দেশজুড়ে প্রশংসা কুড়ানোর পর এবার পলির জন্য এলো বড় সুযোগ। দেশের নারী ক্রীড়াঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে এই গুণী শিক্ষিকাকে আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রতিমন্ত্রীর অফিস কক্ষে এই বিশেষ সাক্ষাৎকারটি অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ঈদুল আজহার সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে তাঁর দীর্ঘ আলাপ হলেও, এবার এই শিক্ষিকাকে সরাসরি সচিবালয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সাক্ষাৎকালে প্রতিমন্ত্রী পলি এবং তাঁর পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং মাঠ পর্যায়ে ক্রীড়াঙ্গনের প্রসারে পলির এই উদ্যোগকে একটি অনন্য ও দারুণ দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
দেশের নারী ক্রীড়াচর্চাকে আরও গতিশীল ও এগিয়ে নিতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। এরই অংশ হিসেবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক শিক্ষিকা সৈয়দা খালেদা আক্তার পলিকে ‘বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা’র সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেন। এর পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনে নারীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের বিষয়েও তাঁকে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
একই সাথে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে পলি এবং তাঁর বিদ্যালয়ের ফুটবলপ্রেমী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পথচলায় সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দেওয়া হয়।
গত ২৯ এপ্রিল ফেনী পিটিআই স্কুল মাঠে প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ের একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের উপজেলা সেমিফাইনাল ম্যাচ চলছিল। সেখানে গিল্লাবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সৈয়দা খালেদা আক্তার পলি প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও মাঠে দাঁড়িয়ে নিজের স্কুলের খুদে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে যেভাবে উৎসাহ দিচ্ছিলেন, তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়।
শিক্ষার্থীদের প্রতি তার এই অকৃত্রিম ভালোবাসা ও খেলার মাঠের দারুণ শৃঙ্খলা প্রদর্শনের বিষয়টি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় পরবর্তীতে গত ২৬ মে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই শিক্ষিকার বাসায় বিশেষ শুভেচ্ছা উপহার পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।
খেলার মাঠের প্রতি পলির এই টান মোটেও আকস্মিক নয় বরং তিনি পারিবারিকভাবেই একটি সমৃদ্ধ ক্রীড়া ঐতিহ্যের উত্তরসূরি। তাঁর বাবা সৈয়দ মমিনুল ইসলাম একসময় উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাব ‘মোহনবাগান’-এর নিয়মিত ফুটবলার ছিলেন। পলির ভাই সৈয়দ মামুনুল হাসান ছিলেন ফেনী জেলার একজন নামী ফুটবলার। এমনকি তাঁর প্রয়াত স্বামী গোলাম রব্বানী ছিলেন ফেনী সকার ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা এবং ফেনী জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট। পারিবারিক এই আবহের বাইরে পলি নিজেও একসময় মাঠ কাঁপানো খেলোয়াড় ছিলেন; তিনি নিয়মিত হ্যান্ডবল ও ভলিবল খেলতেন।













































