শনিবার । জুন ১৩, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক খেলা ১৩ জুন ২০২৬, ১২:২৫ অপরাহ্ন
শেয়ার

ডিবি পরিচয়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার


Cricketer Nayem

জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় নাঈম হাসান

চট্টগ্রামে নিজ বাসায় ফেরার পথে ডিবি পরিচয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার (১২ জুন) রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর লালখান বাজার এলাকায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ মেলায় খুলশী থানার এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) এবং দুই কনস্টেবলকে তাৎক্ষণিকভাবে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে হেনস্তার শিকার ক্রিকেটার নাঈমের ভাই সাব্বির আলম বাদী হয়ে আজ শনিবার সকালে খুলশী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল এবং পুলিশের সোর্স সোহেলকে সরাসরি আসামি করা হয়েছে।

জাতীয় দলের এই অফস্পিনার জানান, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) খেলা শেষ করে শুক্রবার রাতে তিনি বিমানে চট্টগ্রামে পৌঁছান। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে বাসায় ফেরার পথে লালখান বাজার এলাকায় পুলিশ পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর গতিবিধি রোধ করে।

নাঈমের অভিযোগ, গাড়ি থামানোর পর তাকে জোরপূর্বক নামানো হয়। তিনি নিজের খেলোয়াড় আইডি কার্ড (পরিচয়পত্র) দেখালেও খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম লাঠি দিয়ে তাকে আঘাত করতে থাকেন। একই সাথে সাদা পোশাকে থাকা এক ব্যক্তি পাইপ দিয়ে তাকে বেদম মারধর করে। নাঈম বারবার নিজেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দিলেও পুলিশ সদস্যরা তা পাত্তাই দেয়নি।

ঘটনাস্থলে শতাধিক সাধারণ মানুষ জড়ো হয়ে নাঈমের পরিচয় নিশ্চিত করলেও পুলিশের মারধর থামেনি। উল্টো তাকে ‘আসামি’ আখ্যা দিয়ে চুপ থাকার জন্য হুমকি দেওয়া হয়। মারধর শেষে তাকে জোর করে অন্য একটি অটোরিকশায় তুলে অজ্ঞাত স্থানে নেওয়ার চেষ্টাও চলে। পরে খুলশী থানায় নিয়ে যাওয়ার পর সেখানেও দীর্ঘক্ষণ হেনস্তার শিকার হন তিনি।

নাঈম হাসান জানান, থানায় দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ থাকার পর একপর্যায়ে নিজের মোবাইল ফোন ফেরত পেয়ে তিনি সরাসরি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবালকে বিষয়টি জানান। বিসিবি সভাপতি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে টনক নড়ে থানা পুলিশের এবং পরিস্থিতির মোড় ঘোরে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, মূলত একটি অটোরিকশায় সোনা চোরাচালান হচ্ছে—এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে অভিযানের আগে নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না এবং পুলিশের কাছে থাকা তথ্য কতটা সঠিক ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে কিছু ভুলত্রুটি মেলায় দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ছুটিতে থাকা খুলশী থানার এসআই মনিরুল ইসলামের দেওয়া ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই এসআই শফিকুল ইসলাম ওই রাতে লালখান বাজারে এই বিতর্কিত অভিযানটি পরিচালনা করেছিলেন।

ক্রিকেটার নাঈমের বাবা মাহবুবুল আলম এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ছেলের খবর পেয়ে রাতে থানায় গেলে ডিউটি অফিসার তাঁর সাথেও চরম দুর্ব্যবহার করেন। এই ঘটনার জানাজানি হলে রাতেই খুলশী থানায় ভিড় করেন নাঈমের স্বজন, স্থানীয় জনতা ও শত শত ক্রিকেটপ্রেমী। তারা জড়িত পুলিশ সদস্যদের শাস্তির দাবিতে থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, “এই অভিযানের বিষয়ে আমাকে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি। থানায় আনার পর যখন উনার (নাঈম) পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়, আমরা দুঃখ প্রকাশ করেছি।” তবে ঘটনার সুনির্দিষ্ট বিচার ও মামলা না নেওয়া পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবার ও ক্রিকেটপ্রেমীরা থানা ছাড়তে রাজি হননি। শেষ পর্যন্ত মামলা রেকর্ড এবং অভিযুক্ত এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল রাসেলসহ অভিযানে অংশ নেওয়া ৩ জনকে প্রত্যাহারের পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।