
চিত্রনায়ক মামনুন হাসান ইমন
চলছে বিশ্ব ফুটবলের মহাযজ্ঞ। আর এই ফুটবল উন্মাদনায় মেতে উঠেছে গোটা দেশ, যার ঢেউ এসে লেগেছে দেশের শোবিজ অঙ্গনেও। বিনোদন জগতের তারকাদের মধ্যেও প্রিয় দল এবং দলের লড়াই নিয়ে চলছে টানটান উত্তেজনা। এর ব্যতিক্রম নন ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক মামনুন হাসান ইমন। ছোটবেলা থেকেই তিনি ল্যাটিন আমেরিকার পরাশক্তি আর্জেন্টিনার সমর্থক। বিশ্বকাপ, প্রিয় দল এবং ফুটবল জাদুকর মেসিকে নিয়ে নিজের নানা ভাবনার কথা জানিয়েছেন এই অভিনেতা।
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সোহানুর রহমান সোহাগ
আর্জেন্টিনা সমর্থক হওয়ার পেছনের গল্পটা কী?
আমি ছোটবেলা থেকেই পারিবারিকভাবে আর্জেন্টিনার সমর্থক। ফুটবল ঈশ্বর ডিয়েগো ম্যারাডোনার খেলা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম, সেখান থেকেই আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসার শুরু। আর লিওনেল মেসি আসার পর তো তিনি পুরো হৃদয়টাই জয় করে নিয়েছেন। মূলত এই ঐতিহ্যগত কারণেই আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক।
মেসির কোন গুণটি আপনাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করে?
মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি খেলার প্রতি মেসির যে ডেডিকেশন তা আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করে। একসময় তাকে নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে যে সে দেশের জন্য ট্রফি জিততে পারছে না; কিন্তু মেসি হাল ছাড়েনি। সে প্রমাণ করেছে যে মানুষের আত্মবিশ্বাস আর চেষ্টা থাকলে সবকিছুই জয় করা সম্ভব।
আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের মুহূর্তে আপনার অনুভূতি কেমন ছিল?
কাতার বিশ্বকাপের সময়কার একটা মজার অভিজ্ঞতা আছে। শুরুতে একটা ম্যাচে আমি আর্জেন্টিনার জার্সি পরে খেলা দেখছিলাম, আর সেই ম্যাচটা আর্জেন্টিনা হেরে যায়। এরপর আমার মনে একটা কুসংস্কার ঢুকে গিয়েছিল যে, আমি জার্সি পরলেই বোধহয় প্রিয় দল হেরে যাবে। তবে ফাইনালের দিন সেই ভয় কাটিয়ে পরিবার এবং মিডিয়ার সহকর্মীদের সাথে নিয়ে খেলা দেখেছি। আর্জেন্টিনা যখন চ্যাম্পিয়ন হলো, সেই মুহূর্তের আনন্দ আর অভিভূত হওয়ার অনুভূতি আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
ম্যারাডোনা নাকি মেসি আপনার চোখে আর্জেন্টিনার সর্বকালের সেরা ফুটবলার কে?
আমার চোখে দুজনেই সর্বকালের সেরা। তবে আমি ব্যক্তিজীবনে মেসিকে বেশি ধারণ করি। মেসি যেভাবে নিজের ডিসিপ্লিন, কঠোর পরিশ্রম আর লিগ্যাসি দিয়ে নিজেকে বারবার প্রমাণ করেছে, তা আর কারো পক্ষে সম্ভব নয়। তাই দুজনেই সেরা হলেও আমার তালিকায় মেসি একটু বেশি এগিয়ে থাকবে।
বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বিপুল জনপ্রিয়তার কারণ কী বলে মনে করেন?
বাংলাদেশে ফুটবল ভক্তদের মধ্যে আর্জেন্টিনার সমর্থকই সবচেয়ে বেশি। খেয়াল করলে দেখবেন, আমাদের দেশের প্রতিটি পরিবারে যদি পাঁচজন সদস্য থাকে, তবে তার মধ্যে তিন থেকে চারজনই আর্জেন্টিনার ভক্ত। আর্জেন্টিনার নান্দনিক খেলার ঐতিহ্য এবং তাদের আকাশী-নীল জার্সিটাই সমর্থকদের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে। বাংলাদেশে ব্রাজিলের চেয়ে আর্জেন্টিনার সমর্থক বহুগুণ বেশি এবং তারা মনেপ্রাণে এই দলকে ধারণ করে।
আর্জেন্টিনার কোন ম্যাচটি আপনার কাছেেএখনো স্মরণীয়?
নিঃসন্দেহে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি। ওই ম্যাচ চলাকালীন আমার স্নায়ুচাপ বা প্রেশার এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে বলার মতো নয়। তবে ম্যাচ শেষে মেসি যখন সেই সোনালী ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরলেন, তখন মনে হয়েছিল জীবনের সেরা কোনো উপহার বোধহয় আমিই পেয়ে গেলাম।
ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আপনি কীভাবে দেখেন?
বিশ্বকাপ এলে পুরো বাংলাদেশ মূলত এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। পরিবার কিংবা সহকর্মীদের মাঝে যে যুক্তি-তর্ক আর কথার যুদ্ধ চলে, তা বিশ্বকাপের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমার মনে হয় বিশ্বকাপের আসল সৌন্দর্যই এখানে। আমি সবসময় এই বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াইটা বেশ উপভোগ করি।
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি কোন জায়গাটি?
বর্তমান আর্জেন্টিনা দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাদের টিম স্পিরিট। দলের প্রতিটি খেলোয়াড় মাঠে নিজেদের উজাড় করে লিওনেল মেসির জন্য খেলে, দেশের জন্য খেলে। এই ঐক্যটাই তাদের মূল শক্তি।
যদি মেসির সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান, তাকে কী বলবেন?
সত্যি সত্যি যদি এমন কোনো সুযোগ আসত, তবে আমি নিশ্চিত প্রথম দেখায় ভাষা হারিয়ে ফেলতাম। মেসির সামনে দাঁড়িয়ে স্বাভাবিক থাকা যে কারো পক্ষেই অসম্ভব। তবে একটু সামলে নিয়ে আমি তাকে জানাতাম, বাংলাদেশের মানুষ তাকে কতটা পাগলের মতো ভালোবাসে। আর একটা প্রশ্ন করতাম—‘তুমি কি কখনো বাংলাদেশের ফুটবল দলের কোচ হবে?’
আর্জেন্টিনা আবার বিশ্বকাপ জিতলে আপনার উদযাপন কেমন হবে?
এবার যদি আর্জেন্টিনা আবার বিশ্বসেরার মুকুট পরে, তবে আমি খুশিতে একবারে পাগল হয়ে যাবো। আর আমার উদযাপন হবে স্পেশাল আমার যেসব সহকর্মী ব্রাজিলের সমর্থক, তাদের সবাইকে সাথে নিয়ে আমি একটা বড়সড় পার্টি করব।














































