পোপ ফ্রান্সিস দুই কোরিয়ার মধ্যে মিত্রতা জোরদার এবং এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের উপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেছেন, “এটাই দীর্ঘস্থায়ী শান্তির একমাত্র পথ”। শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতির বাসভবন চোং ওয়া দে’তে ভাষণ দানকালে পোপ এ কথা বলেন। পাঁচদিনের এক সফরে রোমান ক্যাথলিকদের ২৬৬তম ধর্মযাজক বৃহস্পতিবার কোরিয়া পৌঁছেছেন। এশিয়া অঞ্চলে এটিই তাঁর প্রথম সফর।

সিউল বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পথে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শুভানুধ্যায়ীদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়ছেন পোপ ফ্রান্সিস। ছবিঃ ইয়নহাপ নিউজ।
৭৭ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন যাজক বলেন, “পারস্পরিক দোষারোপ, অর্থহীন সমালোচনা আর শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে কোনদিন শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায় না। বরং শান্তি আসে সহিষ্ণু আলোচনাতে।” উত্তর কোরিয়া কর্তৃক দুটি পৃথক লক্ষ্যে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কয়েক ঘণ্টা বাদে পোপ এ বক্তব্য দিলেন।
শান্তির জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার আগ্রহই এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে মন্তব্য করে পোপ বলেন, “যুদ্ধপ্রবণ গোটা দুনিয়াকেই এটা প্রভাবিত করছে।”
এর আগে পোপকে কোরিয়ায় স্বাগত জানিয়ে দেয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট পার্ক গুন হে আশা প্রকাশ করেন পোপের এই সফর দুই কোরিয়ার একত্রীকরণ প্রক্রিয়াকে গতিশীল করবে, “সকল কোরিয়ান আপনাকে নিজেদের মাঝে পেয়ে খুশী। আমি আশা করি আপনার আগমন শান্তির উষ্ণ বার্তা ছড়িয়ে দেবে এবং বিচ্ছেদের গভীর ক্ষত সারাত সাহায্য করবে।”
পার্ক বলেন, “এশিয়ায় প্রথম সফরের জন্য কোরিয়াকে বেছে নেয়া এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় পোপের আন্তরিকতারই ইঙ্গিতবহ।” কোরিয়ায় শান্তি স্থাপনে পোপের আগ্রহের জন্য প্রেসিডেন্ট তাঁকে ধন্যবাদ জানান।
জবাবে পোপ বলেন, “কোরিয়ায় আসতে পেরে আমিও আনন্দিত। আমি এখানে শান্তির বার্তা নিয়েই এসেছি।”
পোপের এই সফরকে এশিয়ায় ক্যাথলিক চার্চ বৃদ্ধিতে ভ্যাটিক্যানের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী জানুয়ারীতে তাঁর শ্রীলংকা ও ফিলিপাইন সফরের কথা রয়েছে। এশিয়ার মোট জনসংখ্যার ৩.২ শতাংশ ক্যাথলিক এবং এ সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। কোরিয়াতে ক্যাথলিকদের সংখ্যা ৫৪ লাখের মতো যা দেশটির মোট জনসংখ্যার (৪ কোটি ৯০ লাখ) ১১ শতাংশ।
প্রসঙ্গত, ১৯৮৯ সালে পোপ দ্বিতীয় জন পল দ্বিতীয় দফায় কোরিয়া সফর করেছিলেন। পোপ ফ্রান্সিসের আগমনের আগ পর্যন্ত ওটাই ছিল কোরিয়ায় ক্যাথলিকদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরুর সর্বশেষ সফর।









































