বিমান দুর্ঘটনা, যা এক নিমেষে কেড়ে নিতে পারে অনেক প্রাণ এবং রেখে যায় অপূরণীয় ক্ষতি। ইতিহাসে এমন অনেক ঘটনাই আছে যা মানুষকে যুগ যুগ ধরে নাড়া দিয়েছে। বাংলাদেশের আকাশেও ঘটেছে এমন অনেক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। এই প্রতিবেদনে আমরা বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ১৯৭১ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিমান দুর্ঘটনার একটি তালিকা তুলে ধরব, যেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আহত-নিহত কিংবা বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই দুর্ঘটনাগুলো শুধু অবকাঠামোগত ক্ষতিই করেনি, বরং এর পেছনে রয়েছে অসংখ্য জীবনের গল্প আর স্বজন হারানোর বেদনা।
২১ জুলাই ২০২৫: এফ-৭ বিজিআই যুদ্ধবিমান ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে বিধ্বস্ত হয়। এতে স্কোয়াড্রন লিডার তৌকির ইসলাম সাগরসহ ১৯ জন নিহত এবং দেড় শতাধিক আহত হন।
৯ মে ২০২৪: ইয়াক-১৩০ প্রশিক্ষণ বিমান কর্ণফুলী নদীর মোহনায় বিধ্বস্ত হয়। এতে স্কোয়াড্রন লিডার মুহাম্মদ আসিম জাওয়াদ নিহত হন।
২৩ নভেম্বর ২০১৮: এফ-৭ বিজি যুদ্ধবিমান টাঙ্গাইলে রকেট ফায়ারিং অনুশীলনের সময় বিধ্বস্ত হয়। এতে পাইলট নিহত হন।
১ জুলাই ২০১৮: কে-৮ডব্লিউ প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়, এতে দুইজন পাইলট নিহত হন।
২ জানুয়ারি ২০১৮: মিল এমআই-১৭ হেলিকপ্টার শ্রীমঙ্গলে বিধ্বস্ত হয়, এতে কুয়েতি সামরিক কর্মকর্তাসহ অনেকে হতাহত হন।
২৬ ডিসেম্বর ২০১৭: দুটি ইয়াক-১৩০ কক্সবাজারে বিধ্বস্ত হয়।
১১ জুলাই ২০১৭: ইয়াক-১৩০ চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। পাইলটরা নিরাপদে ইজেক্ট করতে সক্ষম হন।
২১ জুলাই ২০১৫: এমআই-১৭১এসএইচ হেলিকপ্টার মিরসরাইয়ে জরুরি অবতরণকালে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
২৯ জুন ২০১৫: এফ-৭এমবি যুদ্ধবিমান পতেঙ্গা উপকূলে বিধ্বস্ত হয়। এতে ফ্লাইট লেফট্যানেন্ট তাহমিদ নিহত হন।
১৩ মে ২০১৫: এমআই-১৭১ এসএইচ হেলিকপ্টার শাহ আমানত বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হয়। এতে একজন প্রশিক্ষক নিহত হন।
৩০ এপ্রিল ২০১৪: পিটি-৬ প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়।
৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৪: পিটি-৬ প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়।
২০ মে ২০১৩: এল-৩৯ প্রশিক্ষণ বিমান যশোরে রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে।
১৪ জুলাই ২০১৩: ন্যাঞ্ছাং এ-৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়।
৮ এপ্রিল ২০১২: এল-৩৯ অ্যালবাট্রস জেট ট্রেনার মধুপুরে বিধ্বস্ত হয়। এতে ফ্লাইট লেফট্যানেন্ট রেজা শরীফ নিহত হন।
২০ ডিসেম্বর ২০১০: পিটি-৬ প্রশিক্ষণ বিমান বরিশালে বিধ্বস্ত হয়। এতে দুই স্কোয়াড্রন লিডার নিহত হন।
২০১০: এফ-৭এমবি যুদ্ধবিমান পতেঙ্গায় বিধ্বস্ত হয়।
২৩ সেপ্টেম্বর ২০১০: পিটি-৬ প্রশিক্ষণ বিমান কর্ণফুলী নদীতে বিধ্বস্ত হয়।
২২ অক্টোবর ২০০৯: পিটি-৬ ট্রেনার বিমান বগুড়া সদরে বিধ্বস্ত হয়।
১৬ জুন ২০০৯: এফটি-৬ যুদ্ধবিমান চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে বিধ্বস্ত হয়।
৮ এপ্রিল ২০০৮: এফ-৭এমবি যুদ্ধবিমান টাঙ্গাইলের পাহাড়িয়া গ্রামে বিধ্বস্ত হয়। এতে স্কোয়াড্রন লিডার মোরশেদ নিহত হন।
৯ এপ্রিল ২০০৭: পিটি-৬ ট্রেনিং বিমান যশোরে বিধ্বস্ত হয়। এতে ফ্লাইট ক্যাডেট ফয়সাল মাহমুদ নিহত হন।
২৪ এপ্রিল ২০০৬: পিটি-৬ কোটচাঁদপুর, ঝিনাইদহে বিধ্বস্ত হয়। এতে ফ্লাইট ক্যাডেট তানজুল ইসলাম নিহত হন।
৭ জুন ২০০৫: এফ-৭এমবি যুদ্ধবিমান উত্তরায় একটি বহুতল ভবনের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।
৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৫: পিটি-৬ প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়।
২০০৩: পিটি-৬ প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়।
১৫ নভেম্বর ২০০৩: পাইপার সেসনা এস-২ বিমান বিধ্বস্ত হয়।
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৩: এফটি-৭বি বিমান বিধ্বস্ত হয়।
১৯ অক্টোবর ২০০২: এমআই-১৭-২০০ হেলিকপ্টার কক্সবাজারের উখিয়ায় বিধ্বস্ত হয়। এতে ৪ জন নিহত হন।
৩০ জুলাই ২০০২: এ-৫সি যুদ্ধবিমান চট্টগ্রামে বিধ্বস্ত হয়। এতে ফ্লাইট লেফট্যানেন্ট আদনান নিহত হন।
৭ জানুয়ারি ২০০১: এফটি-৭বি ট্রেনার যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে স্কোয়াড্রন লিডার মোহাম্মদ মহসিন নিহত হন।
১৭ নভেম্বর ১৯৯৮: ন্যাঞ্ছাং এ-৫সি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়।
২৬ অক্টোবর ১৯৯৮: এফ-৭এমবি বিধ্বস্ত হয়।
৮ মে ১৯৯৬: একটি মিগ-২১ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়।
১৯৯৪: একটি এফ-৭ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়।
১৯৯৩: দুটি পিটি-৬ ট্রেনিং বিমান সংঘর্ষ হয়, এতে তিনজন পাইলট নিহত হন।
১৯৯৩: একটি এফটি-৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে ফ্লাইট লেফট্যানেন্ট কুদ্দুস নিহত হন।
৩০ এপ্রিল ১৯৯১: ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ৪০টি এফ-৬ এবং ৪টি মিল-৮ হেলিকপ্টার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়।
৫ আগস্ট ১৯৮৪: ফকার এফ-২৭-৬০০ বিমান প্রচণ্ড খারাপ আবহাওয়ায় ঢাকা আগমনের সময় ঝিলেতে বিধ্বস্ত হয়। এতে ৪৯ জন নিহত হন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা।
৩ এপ্রিল ১৯৮০: বোয়িং ৭০৭-৩২০সি, বিমান এস-২-এবিকিউ টেক-অফের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচে পড়ে ধ্বংস হয়। এতে হতাহত হলেও, কেউ মারা যাননি।
১৮ নভেম্বর ১৯৭৯: ফকার এফ-২৭-২০০০ একটি পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে সাভার বাজারের পাশে জরুরি অবতরণ করে। চারজন ক্রু আহত হলেও কেউ নিহত হননি।
১০ অক্টোবর ১৯৭২: স্বাধীনতা পরবর্তী প্রথম দুর্ঘটনা, ডিসি-৩ প্রশিক্ষণ ফ্লাইট ঢাকার কাছে বিধ্বস্ত হয়। এতে ৫ জন নিহত হন।




































