
আসন্ন দুর্গাপূজাকে ঘিরে দেশের ২৯টি জেলা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সামাজিক প্ল্যাটফর্ম ‘সম্প্রীতি যাত্রা’। এর মধ্যে ঢাকা, রংপুর, যশোর, চাঁদপুর ও নোয়াখালীকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এবং বাকি ২৪টিকে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারও আগের সরকারের মতোই বিভাজন ও নিপীড়নের নীতিতে চলছে, ফলে ধর্মীয় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা হুমকির মুখে।
শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনী মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানের শিরোনাম ছিল- “মসজিদ, মন্দির, মাজার, আখড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় সম্প্রীতি যাত্রার ডাক এবং আসন্ন দুর্গাপূজায় ঝুঁকি পর্যালোচনা ও করণীয়”।
লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন লেখক ও গবেষক মীর হুযাইফা আল মামদূহ। আরও বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহা মির্জা, শিল্পী ও চিন্তক অরূপ রাহী, উদীচীর সাংগঠনিক সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন, কবি ফেরদৌস আরা রুমী, লেখক-অ্যাক্টিভিস্ট বাকি বিল্লাহ ও সাংবাদিক রহমান মুফিজ।
লিখিত বক্তব্য জানানো হয়, দুর্গাপূজায় উচ্চঝুঁকিতে থাকা জেলাগুলো হচ্ছে- ঢাকা, রংপুর, যশোর, চাঁদপুর ও নোয়াখালী। মাঝারি ঝুঁকিতে থাকা জেলাগুলো হচ্ছে- গাজীপুর, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, লালমনিরহাট, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, কুষ্টিয়া, সুনামগঞ্জ, বরিশাল, পটুয়াখালী ও নেত্রকোনা। দেশের অন্য জেলাগুলো নিম্ন ঝুঁকিপূর্ণ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পূজা ও অন্যান্য সময়ে সংঘটিত হামলার ঘটনা বিশ্লেষণ করেই এ ঝুঁকির মানচিত্র তৈরি করা হয়েছে।
মীর হুযাইফা আল মামদূহ বলেন, “দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশে সম্প্রীতি বিনষ্টের অপতৎপরতা চলছে, কিন্তু এর কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন হয়নি।”
মাহা মির্জার অভিযোগ, “অন্তর্বর্তী সরকার চোখ বন্ধ করে আছে। সংখ্যালঘুরা ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।”
অরূপ রাহী মন্তব্য করেন, “সামাজিক ফ্যাসিবাদ কায়েম করা হয়েছে। মানুষের ঐক্যবদ্ধতার মধ্য দিয়ে এদের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”
সংগঠনটি জানিয়েছে, শিগগিরই জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হবে। এসব কমিটি মন্দির, মাজার ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় কাজ করবে। পাশাপাশি গুজব ও উসকানি ঠেকাতে ফ্যাক্টচেকিং দল গঠন করা হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ জেলায় নাগরিক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।






































