
সংগৃহীত ছবি
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী, ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে আনার পর সোমবার (৫ জানুয়ারি) নিউইয়র্কের আদালতে হাজির করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের আনা অস্ত্র ও মাদকসংক্রান্ত একাধিক অভিযোগে নিজেদের সম্পূর্ণ ‘নির্দোষ’ বলে দাবি করেছেন তারা দুজনই।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, নিউইয়র্কের ফেডারেল বিচারক অ্যালভিন হেলারস্টাইনের আদালতে হাজির হয়ে মাদুরো বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা কোনো অভিযোগই সত্য নয়। একইভাবে আদালতকে সিলিয়া ফ্লোরেস জানান, তিনিও এসব অভিযোগে নির্দোষ।
শুনানিকালে বিচারক তাদের কনস্যুলার সহায়তা পাওয়ার অধিকার সম্পর্কে জানালে মাদুরো ও ফ্লোরেস উভয়েই কনস্যুলার সাক্ষাতের আবেদন করেন। তবে আপাতত তারা কেউই জামিনের আবেদন করেননি।
মার্কিন প্রসিকিউটররা মাদুরোর বিরুদ্ধে চারটি গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। এর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি তথাকথিত ‘মাদক-সন্ত্রাসী’ ষড়যন্ত্রের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ, যার লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ কোকেন পাচার। অভিযোগে বলা হয়, মাদুরো সশস্ত্র গোষ্ঠী ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে মাদক পাচারে সহায়তা করেছেন।
গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাতে পরিচালিত এক মার্কিন সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করা হয়। পরে তাদের নিউইয়র্কে এনে এসব অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। বর্তমানে তারা ব্রুকলিনের একটি ফেডারেল ডিটেনশন সেন্টারে আটক রয়েছেন।
আদালতে দেওয়া বক্তব্যে মাদুরো বলেন, তাকে কারাকাসে নিজ বাসভবন থেকে আটক করা হয়েছে এবং এটি একটি অপহরণমূলক পদক্ষেপ বলে তিনি দাবি করেন।
মাদুরো আটক হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিতে নির্দেশ দেয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, প্রয়োজনে মার্কিন সেনা মোতায়েনসহ ভেনেজুয়েলার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিচারক অ্যালভিন হেলারস্টাইন মাদুরোর পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন আগামী ১৭ মার্চ। সিলিয়া ফ্লোরেসের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে লড়ছেন হিউস্টনভিত্তিক আইনজীবী ও সাবেক মার্কিন বিচার বিভাগীয় কৌঁসুলি মার্ক ডনেলি।





































