
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ার জোহর বাহরুতে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর স্ত্রীকে ডেকে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও স্বর্ণালঙ্কার লুটপাটের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। কনস্ট্রাকশন সাইটে কর্মী নিয়োগের কমিশন দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে কুয়ালালামপুর থেকে জোহর বাহরুতে নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী ও তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। অভিযুক্ত নিজেকে কনস্ট্রাকশন কোম্পানির কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে জানান, তার স্বামী একই খাতে কাজ করেন, তাই নারীকে কমিশন দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হবে।
বিশ্বাস অর্জনের জন্য ভুক্তভোগীকে ফ্যাক্টরি পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং নিরাপত্তার পূর্ণ নিশ্চয়তা দেয়া হয়। ৭ ডিসেম্বর, অভিযুক্তের কথায় আশ্বস্ত হয়ে স্বামী তাকে জোহর বাহরুগামী বাসে তুলে দেন। সেখানে পৌঁছালে তাকে হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরদিন গাড়ি নষ্ট হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে তাকে কুয়ালালামপুরে ফিরতে বাধা দেওয়া হয়। পরে বাসের পরিবর্তে বিমানের টিকিটের প্রলোভন দেখিয়ে আরও এক রাত হোটেলে থাকতে বাধ্য করা হয়।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, ঘটনার রাতে পানি খাওয়ার সময় তাকে জুস দেওয়া হয়, সম্ভবত এতে চেতনানাশক ওষুধ মিশানো ছিল। জুস পান করার পর তিনি অচেতন হন এবং চারজন ব্যক্তি পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে।
রাত আনুমানিক ৩টার দিকে জ্ঞান ফিরলে তিনি স্বামীকে বিষয়টি জানান। স্বামী মালয়েশিয়ার জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে পুলিশের সাহায্য চান। তবে পুলিশ আসার আগেই অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর হীরার নাকফুল, স্বর্ণের পায়েল ও ব্রেসলেট লুট করে পালিয়ে যায় এবং হত্যার হুমকিও দেয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে আছেন এবং মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী নারী দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন, যেন আর কোনো বোনকে এভাবে প্রতারিত ও লাঞ্ছিত হতে না হয়।
স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে প্রযুক্তির মাধ্যমে অভিযুক্ত চারজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।








































