বুধবার । মার্চ ৪, ২০২৬
প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ন
শেয়ার

মালয়েশিয়ায় পোস্টাল ব্যালট পেতে চরম বিড়ম্বনার শিকার প্রবাসীরা


postal-ballot-paper

ফাইল ছবি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন দেশের বাইরে পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা চালু করলেও, প্রবাসীরা তা সংগ্রহ করতে গিয়ে চরম বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।

সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় পোস্টাল ব্যালট প্রাপ্তিতে এমন ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন প্রযুক্তি পেশাজীবী ও ইয়ুথ হাব মালয়েশিয়ার সহ-প্রতিষ্ঠাতা পাভেল সারওয়ার।

তিনি জানান, প্রবাস থেকে দেশের যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়াটা তার জন্য অত্যন্ত আনন্দের ছিল। কিন্তু মালয়েশিয়ার পোস্টাল সার্ভিস ‘পোস লাজু’ এর ট্র্যাকিং জটিলতায় সেই আনন্দ মুহূর্তেই হতাশায় রূপ নেয়।

পাভেল জানান, অ্যাপের ট্র্যাকিংয়ে তার ব্যালট পেপারটি ‘ডেলিভার্ড’ দেখালেও বাস্তবে তিনি তা পাননি। তাকে কোনো ফোন কল বা নোটিশও দেওয়া হয়নি। পরে কুয়ালালামপুরের ‘পোস লাজু’র প্রধান কার্যালয়ে সরাসরি যোগাযোগ করলে কর্তৃপক্ষ জানায়, তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি বলে পার্সেলটি রিটার্ন করা হয়েছে। তবে পাভেল বলেন, তাকে কখনো ফোন করা হয়নি। সেখানে গিয়ে তিনি আরও লক্ষ্য করেন, একই সমস্যায় আরও চার থেকে পাঁচজন বাংলাদেশি প্রবাসী উপস্থিত ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে পাভেল বলেন, “একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে ভোট দেওয়া আমার অধিকার। কিন্তু পোস্টাল সার্ভিসের এমন গাফিলতি দেখে আমি হতাশ। আমি নিজে অফিসে গিয়ে ব্যালট সংগ্রহ না করলে আমার ভোট দেওয়ার সুযোগই হারাতাম। সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয় হলো, মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে আরও কয়েকজন প্রবাসী একই সমস্যায় পড়তে দেখেছি। আমরা চাই না, এমন অসতর্কতায় কারো নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন হোক।”

তিনি আরও সতর্ক করেছেন, পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থায় নিরাপত্তার গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। পাভেলের ভাষায়, “আপনার ট্র্যাকিং নম্বর জানা থাকলে অন্য কেউ খুব সহজেই আপনার ব্যালট সংগ্রহ করতে পারে। পোস লাজু অফিসে কোনো আইডি যাচাই ছাড়াই শুধু নাম ও পাসপোর্ট নম্বর লিখে পার্সেল নেওয়া সম্ভব। এতে কার পার্সেল কে নিচ্ছে, তা যাচাই করা কঠিন।”

মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অন্যান্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, শুধু অ্যাপের ট্র্যাকিংয়ের ওপর নির্ভর না করে পোস লাজু ওয়েবসাইটে নিয়মিত নম্বর যাচাই করুন। কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে কলের অপেক্ষা না করে দ্রুত নিকটস্থ পোস্ট অফিসে যোগাযোগ করুন, যাতে ব্যালটটি বাংলাদেশে ফেরত যাওয়ার আগে সংগ্রহ করা যায়।

সচেতন মহল মনে করছেন, পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়াকে কার্যকর করতে প্রবাসীদের ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা প্রবাসীদের নিয়মিত তথ্য প্রদান, দিকনির্দেশনা ও সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।