রবিবার । মার্চ ২২, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:০২ অপরাহ্ন
শেয়ার

আন্তর্জাতিক বাজারে সর্বকালের সর্বোচ্চ দামে সোনা-রুপা


gold-silver

ছবি: সংগৃহীত

ইরানে চলমান উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভকে ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণে নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুর দাম পৌঁছেছে নজিরবিহীন উচ্চতায়। বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা ও রুপা উভয়ই সর্বকালের সর্বোচ্চ দামে পৌঁছেছে।

মার্কিন স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে দাঁডিয়েছে ৪ হাজার ৬২৭ দশমিক ৭২ ডলারে। লেনদেনের একপর্যায়ে সোনার দাম রেকর্ড ৪ হাজার ৬৩৯ দশমিক ৪৮ ডলারে পৌঁছায়। একই সঙ্গে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে ডেলিভারির জন্য সোনার ফিউচার মূল্য ০.৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৬৩৬ ডলারে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ও ফেডের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ এবং ডলারের ওপর আস্থাহীনতা বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করছে। নেমো ডট মানির প্রধান বাজার বিশ্লেষক জেমি দত্ত বলেন, “এই মুহূর্তে সোনা বিনিয়োগকারীদের কাছে সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।”

এদিকে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রুপার দাম ৯০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়েছে। স্পট মার্কেটে একদিনেই রুপার দাম প্রায় ৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় প্রতি আউন্স ৯০ দশমিক ৪৬ ডলারে। দিনের একপর্যায়ে দাম উঠে যায় সর্বোচ্চ ৯১ দশমিক ৫৩ ডলারে। চলতি বছরের মাত্র ১৪ দিনের মধ্যেই রুপার দাম বেড়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সম্ভাব্য সুদের হার কমানোর প্রত্যাশাও সোনা ও রুপার দাম বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, ডিসেম্বরে দেশটির ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) মাসভিত্তিক ০.২ শতাংশ এবং বার্ষিক ২.৬ শতাংশ বেড়েছে। এতে চলতি বছরে অন্তত দুই দফা সুদ কমানোর সম্ভাবনা ধরে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

অন্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। স্পট প্লাটিনামের দাম ৩.৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ২ হাজার ৪০৬ দশমিক ৭৫ ডলারে। প্যালাডিয়ামের দামও সামান্য বেড়ে ০.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৮৪০ দশমিক ১৯ ডলারে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে মূল্যবান ধাতুর বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা আরও কিছুদিন বজায় থাকতে পারে।