
বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী নারীদের তালিকায় যার নাম প্রথম সারিতে থাকে, তিনি হলেন অ্যাবিগেল জনসন। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সফল মিউচুয়াল ফান্ড কোম্পানি ‘ফিডেলিটি ইনভেস্টমেন্টস’-এর চেয়ারম্যান এবং সিইও তিনি। ৩২.৭ বিলিয়ন ডলারের বিশাল সম্পদের মালিক হয়েও তার শুরুটা ছিল অত্যন্ত সাধারণ এবং পরিশ্রমী।
অ্যাবিগেল জনসনের সফলতার গল্পটি শুরু হয় পারিবারিক ঐতিহ্য থেকে। ১৯৪৬ সালে তার দাদা এডওয়ার্ড সি. জনসন ফিডেলিটি ইনভেস্টমেন্টস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু জনসন পরিবারের নিয়ম ছিল বেশ কঠিন; শুধুমাত্র বংশ পরিচয়ে কেউ বড় পদ পাবে না। তাই কলেজে পড়ার সময় গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে সাধারণ কর্মীদের মতো ফিডেলিটিতে কাজ শুরু করেন অ্যাবিগেল। তিনি কাস্টমারদের ফোন কল রিসিভ করতেন এবং ছোটখাটো প্রশাসনিক কাজ করতেন। এতে করে একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে কোম্পানির নাড়ি-নক্ষত্র বোঝার সুযোগ পান তিনি।

উচ্চশিক্ষা শেষ করার পর ১৯৮৮ সালে তিনি একজন পূর্ণকালীন ‘ইকুইটি অ্যানালিস্ট’ হিসেবে কোম্পানিতে যোগ দেন। প্রায় ২৬ বছর তিনি কোম্পানির বিভিন্ন বিভাগে কাজ করে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি বিনিয়োগ বাজার সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন। উত্তরাধিকারী হিসেবে নয় বরং একজন কঠোর পরিশ্রমী পেশাদার হিসেবে তিনি নিজের জায়গা করে নেন।
অ্যাবিগেলের দক্ষতার ওপর আস্থা রেখে ২০১৪ সালে তার বাবা এডওয়ার্ড ‘নেড’ জনসন পদত্যাগ করলে অ্যাবিগেল সিইও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে তিনি চেয়ারম্যান মনোনীত হন। তার নেতৃত্বে ফিডেলিটি কেবল ট্র্যাডিশনাল ইনভেস্টমেন্টে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তিনি ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো আধুনিক ডিজিটাল সম্পদে বিনিয়োগ করার সাহসী পদক্ষেপ নেন, যা কোম্পানিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। ২০২২ সালে তার বাবার মৃত্যুর পর তিনি সম্পূর্ণভাবে ফিডেলিটির প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন। বর্তমানে তার অধীনে ফিডেলিটি ইনভেস্টমেন্টস প্রায় ৪.৯ ট্রিলিয়ন ডলারের অ্যাসেট করেছেন।

বর্তমানে ৬৩ বছর বয়সী অ্যাবিগেলের সম্পদ প্রধানত আসে ফিডেলিটিতে তার ২৮.৫% শেয়ার থেকে। একজন সাধারণ অ্যানালিস্ট থেকে আজকের এই ৩২.৭ বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্যের অধিপতি হওয়া এটি কোনো মিরাকল ছিল না বরং ২৬ বছরের ধৈর্য এবং সিইও হওয়ার পর প্রথাগত নিয়ম ভাঙার অসীম সাহসেরই ফসল আজকের এই অ্যাবিগেল জনসন।










































