রবিবার । মার্চ ২২, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক রাজনীতি ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৫:৫৪ অপরাহ্ন
শেয়ার

একটি দল কেন আগেভাগে সব চেয়ার দখল করল, লাঠিসোঁটা আনলো, তদন্ত জরুরি: মাহদী আমিন


Mahdi Amin

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন

শেরপুরে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতার ঘটনা অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। তিনি বলেন, পুরো ঘটনাটি এড়ানো সম্ভব ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, শেরপুরে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে সব প্রার্থীর অংশগ্রহণে একটি নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। সেখানে প্রতিটি দলের জন্য নির্দিষ্ট আসন নির্ধারিত ছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা আগেভাগে সব চেয়ার দখলে নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের নির্ধারিত স্থানে বসতে বাধা দেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ জানানো হলেও তারা চেয়ার ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান।

তিনি বলেন, ‘চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে যে সংঘাত ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গণ-অভ্যুত্থানের পর সবার প্রত্যাশা ছিল একটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, সংঘাতময় পরিবেশ নয়।’

ঘটনার পেছনের কারণ তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই একটি দল কেন সব চেয়ার দখল করল, কেন সেখানে লাঠিসোঁটা জড়ো করা হলো এবং সবার অনুরোধ উপেক্ষা করে কেন সংঘাতের পথ বেছে নেওয়া হলো—এসব প্রশ্নের জবাব খুঁজে বের করা জরুরি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে দেখা যায় সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে পুলিশ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সেনাবাহিনী এমনকি বিএনপির নেতাকর্মীরাও অনুরোধ করেছিলেন নির্দিষ্ট একটি রাস্তা ব্যবহার না করতে। তা সত্ত্বেও তিনি সেই পথেই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং বারবার বলতে শোনা যায়, ‘জান যায় যাক’।

বিএনপির এই নেতা জানান, সংঘর্ষে দলের ৪০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ও কঠোর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

শেরপুরের ঘটনাকে অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, কীভাবে সহিংসতা শুরু হলো, কারা এতে মদদ দিয়েছে এবং কেন প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলো—এসব বিষয়ে স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন উঠছে।

উল্লেখ্য, বুধবার বিকেলে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে জামায়াতের এক নেতা নিহত হন। ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসা নিয়ে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। নিহত মাওলানা রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ছিলেন এবং তিনি ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন।