মঙ্গলবার । মার্চ ১৭, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক বিজনেস ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৫ অপরাহ্ন
শেয়ার

সকালে কমিয়ে রাতে ফের বাড়ানো হলো সোনার দাম


gold

ফাইল ছবি

দেশের বাজারে সোনার দাম নিয়ে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। এক দিনের ব্যবধানেই দাম কমানো এবং পুনরায় বাড়ানোর নজিরবিহীন ঘটনা দেখল ক্রেতারা। সর্বশেষ দফায় প্রতি ভরি সোনায় সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৮২ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এতে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) এক ভরি সোনার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৯ টাকায়।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন মূল্য তালিকার কথা জানানো হয়, যা আগামীকাল রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে। বিস্ময়কর বিষয় হলো, এদিন সকালেই সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছিল সংগঠনটি। কিন্তু ১২ ঘণ্টা পার না হতেই স্থানীয় বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম বাড়ার অজুহাতে পুনরায় দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের ভালো মানের সোনার ভরি এখন ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৯ টাকা, ২১ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯১৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ১২ হাজার ৫১৮ টাকা, আর সনাতন পদ্ধতির দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৯১০ টাকা। তবে রুপার দাম এদিন পরিবর্তন হয়নি। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৭,২৯০ টাকা, ২১ ক্যারেট ৬,৯৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৫,৯৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতি ৪,৪৩২ টাকা।

দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা আসলেও আন্তর্জাতিক বাজারে দেখা গেছে বড় ধরনের দরপতন। বিশ্বজুড়ে সোনা ও রুপার দামের নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট ‘গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি’র তথ্যমতে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৫,৫৫০ ডলার থেকে হু হু করে কমে বর্তমানে ৪,৮৯৩ ডলারে নেমে এসেছে।

গত এক সপ্তাহ ধরে সোনার বাজারে রীতিমতো নাটকীয়তা চলছে। গত বৃহস্পতিবার এক লাফে ভরিতে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা করা হয়েছিল, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড। তবে ২৪ ঘণ্টা না যেতেই শুক্রবার সকালে আবার ১৪ হাজার ৬০০ টাকা কমানো হয়। এখন শনিবার রাতে ফের দাম বাড়ানোয় সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

সকালে দাম কমিয়ে রাতে আবার বাড়ানো—এই অস্থিরতা বাজারে চাহিদা-সরবরাহের সঙ্গে মিলিয়ে চলমান ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা এবং স্থানীয় চাহিদা মিলিয়ে সোনার বাজারে এমন দ্রুত ওঠা-নামার প্রবণতা চলতে পারে। এই অস্থিরতার মধ্যে সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে সোনার ক্রয়-বিক্রয় পরিকল্পনা করা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে।