
সবকিছু ঠিকঠাকই ছিল, জুরিবোর্ডের সদস্যরাও বেশ আয়েশ করে যোগ্য মানুষদের নাম প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন জারি হতেই সবার চোখ চড়কগাছ! যে আজীবন সম্মাননার প্রধান শর্তই হলো,পুরস্কার গ্রহণের সময় ব্যক্তিকে ‘জীবিত’ থাকতে হবে, সেই পুরস্কারই কিনা দেওয়া হয়েছে এমন দুজনকে, যারা আজ আমাদের মাঝে নেই। মৃত ব্যক্তিদের আজীবন সম্মাননা দিয়ে যেন নিজেদের তৈরি করা নিয়মকেই এক চুটকিতে উড়িয়ে দিল মন্ত্রণালয়।
তারেক মাসুদ আর আবদুল লতিফ বাচ্চু—চলচ্চিত্রের এই দুই নক্ষত্রকে নিয়ে কারো কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে সরকারি নীতিমালার ১ (খ) ধারা নিয়ে। সেখানে স্পষ্ট বলা আছে, এই সম্মাননা শুধু জীবিতদের জন্য। অথচ তারেক মাসুদ পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন এক যুগেরও বেশি সময় আগে আর আবদুল লতিফ বাচ্চু চলে গেছেন গত জানুয়ারিতে। প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর থেকেই চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ফেসবুক গ্রুপগুলোতে রীতিমতো বিতর্কের খই ফুটছে। নেটিজেনদের প্রশ্ন—মন্ত্রণালয় কি তবে নিজেদের নিয়মই ভুলে গেল?
ভেতরের খবর হলো, জুরিবোর্ড কিন্তু অভিনয়শিল্পী শবনম আর ইলিয়াস জাভেদের নামই চূড়ান্ত করে পাঠিয়েছিল। জুরিবোর্ডের সদস্য চিত্রনায়িকা সুচরিতা তো বেশ অবাক হয়েই জানালেন, এক বছর ধরে ফাইলটি কোন কোন টেবিল ঘুরে এই রূপ ধারণ করল, তা তাদের জানা নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও জুরিবোর্ড সদস্য এস এম ইমরান হোসেনও মনে করেন, সরকার চাইলে নিয়ম বদলে মরণোত্তর পুরস্কার দিতে পারত কিন্তু আজীবন সম্মাননার নামে এমন সিদ্ধান্ত নজিরবিহীন।
এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কোনো সদুত্তর মেলেনি। সবশেষে চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের সদস্য এস এম আবদুর রহমান দায়টা ক্যাবিনেট ডিভিশনের ঘাড়েই চাপালেন। সব মিলিয়ে এবারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বড় এক গোলযোগের জন্ম দিল। গুণীজনদের সম্মান জানাতে গিয়ে যে বিতর্কের পাহাড় তৈরি হলো, তা এখন টলিউড ছাড়িয়ে পুরো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
বাংলা টেলিগ্রাফ উদ্যোগের গল্প









































