
প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে আজকের সংঘটিত ঘটনা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বিবৃতি দেয়া হয়েছে। বিবৃতি বলা হয়েছে-শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে যমুনার সামনে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করেছে। কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র বা গুলি ব্যবহার করা হয়নি এবং ঘটনায় আহত কারও শরীরে গুলির আঘাত নেই।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর ব্যানারে যমুনার সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। যমুনা ও আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও প্রথমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো বলপ্রয়োগ করেনি। তবে বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে এবং একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করা হয়।
জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় যেকোনো ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, গণজমায়েত ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে পুলিশ সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনানুগভাবেই বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে- বলা হয় বিবৃতিতে।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় আহত হয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ মোট ২৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। আহতদের কারও শরীরে গুলির আঘাত পাওয়া যায়নি বলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। এ ঘটনায় জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে আগামী রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে।
বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের যে অভিযোগ উঠেছে, তা সঠিক নয় বলেও দাবি করেছে সরকার।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সংবেদনশীল রাজনৈতিক সময়ে সরকার সবাইকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ এই নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি বর্তমানে বাংলাদেশের দিকে নিবদ্ধ। ইতোমধ্যে বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকেরা দেশে উপস্থিত হয়েছেন।
সরকার মনে করে, একটি উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে সকল নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতাই একটি গ্রহণযোগ্য ও মর্যাদাপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারে।






































